বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের একটি উক্তি উল্লেখ করতে হয়।
“Fear not death for the sooner we die, the longer we shall be immortal.”
একটা ভয়। আর সেই ভয় তদারকি সরকারকে এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই ভয় কিন্তু নতুন নয়। বহু পুরনো। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের পর থেকে তদারকি সরকারকে তাড়া করে বেরিয়েছে এই ভয়। আর ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, সেই ভয় যেন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। এই ভয়ের নাম হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তার জন্য তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস কম চেষ্টা করেননি। সেই চেষ্টাতে তিনি সফলও হয়েছেন। নির্বাচন হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই। হাসিনা এই নিয়ে তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। দলের কর্মীদের তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি তারা যেন ভোট না দেয়।
দলীয় কর্মীদের জন্য তাঁর বার্তা “যেখানে ব্যালটে নৌকা নেই, সেখানে কেউ ভোট দেবে না। কেউ ভোট দিতে যাবেন না। আমি আমার আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের বলব যে, যেখানে আওয়ামী লীগ ইলেকশন করতে পারছে না… ইলেকশন করতে দিচ্ছে না… আমি ইলেকশন করতে চাই। ঠিক আছে। আমরা চাই আওয়ামী লীগ ইলেকশন করবে… অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ তাঁর মতামত দেবে .. জনগণ যে ম্যানডেট দেবে আমরা সেটা মাথা পেতে নেব। আওয়ামী লীগ ভালো কি মন্দ, সেটা ইউনূসের মতো একটা দুষ্কৃতীকারীর মুখে শুনতে চাই না। জনগণ বলুক … জনগণ দেখাক… কাজেই আমি এটাই চ্যালেঞ্জ দেব .. যে ভোটের মধ্য দিয়ে মানুষ সিদ্ধান্ত নিক… জনগণ…তারা কাকে চায় ?”
ভোটের মুখে একজন পলাতক নেত্রী যদি এইভাবে তাঁর দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করেন, তাহলে তো ইউনূসের পক্ষে সেটা ভয়ের কারণ হয়ে উঠবে। গত বছর যখন হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, সেই সময় তিনি ইউনূসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন। বলেছিলেন, ইউনূস একটা হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দিক। সেই হেলিকপ্টারে করেই তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু তদারকি সরকারের সাহস হয়নি হাসিনার জন্য দিল্লিতে বিমান পাঠিয়ে দেওয়ার। ইউনূস জানেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফেরা মানে রাজনীতির সব সাজানো ঘুঁটি ঘেটে যাওয়া। ভোটের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিরে এলেই তাঁর বিপদ।
গত শুক্রবার দিল্লি থেকে তিনি একটি অডিও বক্তব্য দেন। তাতে আরও চটেছে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। সরকারের তরফে এই নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ সরকার বিস্মিত এবং হতাশ হয়েছে। ”
(The Government and the people of Bangladesh are surprised and shocked that fugitive Sheikh Hasina, who has been convicted by the International Crimes Tribunal for committing crimes against humanity, was allowed to make a statement at a public event in New Delhi on 23rd January.)
তদারকি সরকারের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, “ আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্য আবার প্রমাণ করেছে যে কেন, অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত হিংসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। তার আগে এই বার্তা, দিল্লি থেকে অডিও বার্তা যে তদারকি সরকারে প্রধানের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post