আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে তো?
এই প্রশ্ন “নিউজ বর্তমান”-য়ের নয়। এই প্রশ্ন এখন আপামর বাংলাদেশবাসীর। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই প্রশ্ন দামি থেকে আরও দামি হয়ে উঠছে। নিলামে যে ভাবে দর হাঁকা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ঠিক সেভাবেই দর চড়ছে। হাসিনাহীন নির্বাচন ঘিরে কয়েক মাস আগেও যে সব হিসেব ছিল সেই সব কিছু এখন তামাদি হয়ে গিয়েছে। যে জামাত এতোদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকমহলের কাছে অচ্ছ্যুৎ ছিল, তাদের এখন সম্মানের সঙ্গে দেখা শুরু হয়েছে। বসুন্ধরায় জামায়াতের দফতরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক। এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও নির্বাচনের আবহে বৈঠক যে নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
পরে ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে সেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করা হয়। পোষ্টে লেখা হয়, বাংলাদেশের অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। জামাতের তরফেও তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ছবির সঙ্গে তারাও জানিয়ে গিয়েছে বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু। জামায়াতের তরফে বলা হয়েছে, “ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদী দুপক্ষই।”
বস্তুত জামাত বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়ত আইন মেনে সরকার পরিচালনার পক্ষপাতী। এমনকী কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের কাজের সময়ও তারা কমিয়ে দিতে চায়। সন্তানদের দেখাশোনার জন্য মহিলাদের কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী জামাত। যদিও দলের দাবি, এই মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য সামাজিক সমস্যা দূর করা। একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করা। নির্বাচনের আগে নিজেদের এই অবস্থানকে তারা বেশি করে তুলে ধরতে চায়।
শক্তিশালী হবে তো? শক্তিশালী করতে গেলে তো দরকার নির্বাচন। এই প্রসঙ্গে দু’জনের বক্তব্য তুলে ধরা যাক। প্রথমজন সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। একটি অডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধুকন্যা জানিয়েছেন, “যেখানে ব্যালটে নৌকা নেই, সেখানে কেউ ভোট দেবে না। কেউ ভোট দিতে যাবেন না। আমি আমার আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের বলব যে, যেখানে আওয়ামী লীগ ইলেকশন করতে পারছে না… ইলেকশন করতে দিচ্ছে না… আমি ইলেকশন করতে চাই। ঠিক আছে। আমরা চাই আওয়ামী লীগ ইলেকশন করবে… অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ তাঁর মতামত দেবে .. জনগণ যে ম্যানডেট দেবে আমরা সেটা মাথা পেতে নেব। আওয়ামী লীগ ভালো কি মন্দ, সেটা ইউনূসের মতো একটা দুষ্কৃতীকারীর মুখে শুনতে চাই না। জনগণ বলুক … জনগণ দেখাক… কাজেই আমি এটাই চ্যালেঞ্জ দেব .. যে ভোটের মধ্য দিয়ে মানুষ সিদ্ধান্ত নিক… জনগণ…তারা কাকে চায় ?”
অর্থাৎ তিনি সরাসরি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা ভোট না গিলে নির্বাচনী ফলাফল যে প্রশ্নবিদ্ধ হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর তারেক রহমানমান কী বলেছেন, সেটাও এই ফাঁকে একবার দেখে নেওয়া যাক। সরকারে এলে তারা কী কী কাজকে অগ্রাধিকার দেবে, তার একটি তালিকা ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছেন। ওই সভাতেই তারেক বলেন, “অন্য একটি গোষ্ঠী… তারা আবার কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে যেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এই ব্যাপারে আপনাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ১২ তারিখে ইনশআল্লাহ… ১২ তারিখে … এখানে যারা মুসলমান ভাই আছেন, আপনারা তাহাজ্জতপুরে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় স্ব স্ব ভোটকেন্দ্রে গিয়ে… ভোরে ফজরের জামাত… ওখানে ভোটকেন্দ্রের সামনে আদায় করবেন এবং যারা মুসলমান… অন্য ধর্মের ভাই বোনেরা আছেন, তাদেরকে সাথে নিয়ে যাবেন, যাতে করে সকাল সকাল সবাই ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে পারে। ”












Discussion about this post