বাংলাদেশ- চীন কী আরও কাছাকাছি। ভারত সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে নীলফামারিতে হাসপাতাল বানাচ্ছে চীন। অত্যাধুনিক একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে। ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। যার মধ্যে চিনের তরফ থেকে দেওয়া হবে ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যয় করা হবে বাকি অর্থাৎ ৭৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ২ বছর আগে। দুবছর আগের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন মহম্মদ ইউনূসের জমানায়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসচিব, সাইদুর রহমান এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রংপুরের নীলফামারীতে চিনের দেওয়া অর্থে একটি ভাল হাসপাতাল হবে। সেই টাকা দেবে চীন। হাসপাতাল হওয়ায় বহু মানুষের উপকার হবে। কোনও রোগীকে শরীর খারাপ হলে আর দূরে যেতে হবে না তারা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবে। ২০২৫ সালে চিন-বাংলাদেশের উদ্যোগে তিনটি হাসপাতাল তৈরীর কথা ঘোষণা করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। সেই ৩ টি হাসপাতাল গুলি একটি নীলফামারীতে, দ্বিতীয়টি চট্টোগ্রামের একটি জেনারেল হাসপাতালে তৃতীয়টি ঢাকায়। তিনটির মধ্য়ে নীলফামারীতে হাসপাতাল গড়তে চলেছে ঢাকা। কিছুদিন আগে চিনা রাষ্ট্রদূত যমুনাতে ঘুরে গিয়েছেন। যমুনা থেকে ঘুরে যাবার পরই হাসপাতাল তৈরীর কথা জানায় সেদেশের স্বাস্থ্য দফতর। গত বছরের মার্চ মাসে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন।
তারই প্রেক্ষিতে দ্রুততার সঙ্গে চীন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। নীলফামারীতে হাসপাতালের ভবন হবে ১০ তলা। অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকবে হাসপাতালে। অটোমেটেড অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতির কেনার জন্য খরচ হবে প্রায় ৯৪৫ কোটি টাকা। ১০ তলা ভবন করতে খরচ হবে ৮০২ কোটি টাকা। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন, রোগীর পরিবারদের বসার জায়গা এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। অন্যদিকে, সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা পাবেন রোগীরা এবং তাঁদের পরিবারের লোকেরা। এছাড়াও, সোলার প্যানেল, সিসিটিভি-সহ আরও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা। হাসপাতাল নিয়ে মহম্মদ ইউনূস বলেন, এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।” তিনি আরও বলেন, “রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার অন্যরকম পরিষেবা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই হাসপাতল নির্মাণের পিছনে কী কোনও ষড়ষন্ত্র চলছে? মহম্মদ ইউনূস কী তাহলে অন্য কোনও প্ল্যান পরিকল্পনা করছে? এরকম একাধিক প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে।












Discussion about this post