চিনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক জেনারেল এবং চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা কি সে দেশে অভ্যুত্থান করতে চেয়েছিলেন? এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম খবরটি প্রথম ফাঁস করে। আর আশ্চর্যজনকভাবে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র সেই খবর কার্যত স্বীকার করে এক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ খবরটি সত্যি। যা এক বিরল ঘটনা বলেই ব্যাখ্যা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের শিয়রে সংক্রান্তি? নাকি এ যাত্রা তিনি বেঁচে গেলেন?
ঘটনা হল, চিনা সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বরিষ্ঠ সেনা জেনারেল ঝাং ইউশিয়ার পদমর্যাদা কার্যত শি জিংপিনের ঠিক নিচেই। আবার চিনা প্রেসিডেন্টের ডানহাত বলে পরিচিত লিউ ঝেনলিও চিনা সামরিক বাহিনীতে যথেষ্টই উচ্চপদে আসীন। এই দুজনের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে শি জিংপিনের ঘরে সিঁধ কাটতে গিয়ে ধরা পড়া শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে, শুরু হয়েছে তদন্ত। যেটা জানা গিয়েছে প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের আদেশে প্রায় ৩ হাজারের বেশি সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। ঘটনাটি একেবারেই ছোটোখাটো নয়। কারণ, এটা সম্ভবত বড়সড় সেনা অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল।
যেটা বলা হচ্ছে, দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের গোপন তথ্য আমেরিকায় পাচার করার অভিযোগ রয়েছে ওই শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারের শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল ও কলঙ্কিত করে তোলার চেষ্টা এবং সেনাহাহিনীর ঐক্যে ‘ফাটল’ ধরানোর। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে চিনে সরকারি স্তরে কোনও সেনাবাহিনী নেই। চিনের পিপলশ লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ হল চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব সেনাবাহিনী। এই চিনা কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিপি পুরো চিনকে নিয়ন্ত্রণ করে, শাসনব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামরিক, বৈদশিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন হলেন সিপিপি এবং পিএলএ-এর সর্বোচ্চ নেতা। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, শি পার্টি এবং সেনাবাহিনী দুইয়ের উপরেই একক নিয়ন্ত্রণ কয়েক করতে সচেষ্ট। সম্ভবত সেই কারণেই এই অভ্যুত্থানের চেষ্টা।
জানা গিয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে, চিনের সামরক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন বা সিপিসি-র ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চিনের সামরিক বাহিনীর নিরিখে এই পদটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষপদ থেকে তাঁকে বরখাস্ত করার পরই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু যেটা জানা গিয়েছে সেটা আরও মারাত্মক। ঝাং ইউশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন সেনা সদস্যদের সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্টের নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গুলির লড়াই হয়। তাতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলেই খবর। জেনারেল ঝাং ইউশিয়া এবং শি জিংপিনের ডানহাত বলে পরিচিত লিউ ঝেনলির অনুগত সেনা আধিকারিকরা ক্ষমতার দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। তাঁদের মুখে স্লোগান ছিল, “সেভ দ্য পার্টি, সেভ দ্য নেশন”। কিন্তু চিনা কমিউনিস্ট পার্টি ও পিপলস লিবারেশন আর্মিতে শি জিংপিন ঘনিষ্টরা ওই চেষ্টা প্রতিহত করেন। তারপরই সকলকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাচক্রে চিনে কমিউনিস্ট শাসন ছুঁড়ে ফেলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা নিয়ে জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে বলেই খবর। যা কড়া হাতে দমন করছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি ও সামরিক বাহিনীর গঠনতন্ত্রের শীর্ষ সাত আধিকারিকের মধ্যে পাঁচজনকেই সরিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন। ফলে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলন জোরদার হতেই শি একে একে সকলকে সরিয়ে একক ক্ষমতার দিকে এগোচ্ছেন। চিনে এমনিতেই বহিরবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। ফলে ওই দেশে কি হয় তার খবর চট করে বাইরে আসে না। কিন্তু এই খবর চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মূল মুখপত্র প্রকাশ করেছে। যা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। মনে করা হচ্ছে, এটা ট্রেলার, পিকচার অভি বাকি হ্যায়।












Discussion about this post