বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি মাঠে ময়দানে নেমে শুরু করে দিয়েছে জনসংযোগ। এরমধ্যে ভোটের প্রচার করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন। তিনি বলেন, হাসিনা আপা তার রেখে যাওয়া কর্মীদের দায়িত্ব আমাদের। আমরা দেখভাল করব। অন্যদিকে সালাউদ্দিন আহমেদ তীব্রভাবে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির এমপি ক্যান্ডিডেটকে বলতে শোনা গেল, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে। যদি আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতা,কর্মী, সমর্থকরা বিএনপিকে ভোট দেয়। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি ওই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা রয়েছে, সেগুলি তুলে নেওয়া যায়। মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্তত তার কথা শুনে এটাই মনে হচ্ছে। তবে কি ভোটের আগে আওয়ামী লীগের সব মামলা প্রত্যাহার করে নেবে বিএনপি!
আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে এমন একটি কথা কিছুদিন আগে বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন বিএনপির একজন প্রার্থী বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের সমস্ত মামলা তুলে নেবেন। অনেকে বলছেন, আসলে ভোটার বাক্সে ভোট প্রয়োজন। জয়ী হওয়া মূল লক্ষ্য। তবে এক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের সাহায্য নিতে হচ্ছে তাদের। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ভোটে না থেকেও ভোটের ময়দানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ভোট টানতে দুই দলের কাড়াকাড়ি। জামাত বিএনপি….দুই দলই অতি কৌশলে ভোট টানছে। আওয়ামী লীগের ভাইদের নামে যে মামলা আছে আমি তা তুলে নেব। এটা বলছেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব মুজিবর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষে সবচেয়ে বড় দুটি দল হল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। স্রোত এখন বইছে ধানের শীষের দিকে। ধানের শীষ কে যদি ভোট দিয়ে এগিয়ে দেন তাহলে আপনার এলাকায় উন্নয়ন হবে। আমার নেতার তারিখ রহমান বলেছেন মানুষ যেভাবে পছন্দ করে আমরা সেই ভাবেই চলব। তারই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহ প্রার্থী মহসিন মিয়া মধুর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সাড়ে তিন হাজার ভোটের মেয়র উনি এখন ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ভোটের সংসদ নির্বাচনে। আমি প্রথমে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি। পরে দলের হয়ে এবার নিয়ে তৃতীয়বার ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছি। উনি যে দলের বিরুদ্ধে লাগছে উনার পিছনে কি শহীদ সাব আছেনি? আওয়ামী লীগের লোক কি ওনাকে ভোট দিব? কালাপুরের আওয়ামী লীগের প্রত্যেক লোক আমাকে ভোট দিবো। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি। কেন দিবে? আমি বলেছি তোমরা আমার ভাই। আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না। আমরা সবাই সাধারণ মানুষ। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। এখন আমি যদি আওয়ামী লীগের মানুষকে কেস দিয়ে দৌড়ায়, বিএনপির মানুষকে কেস দিয়ে দৌড়ায়, লাভের লাভ কিছু হইব না? ভোট আরও কমব। এই কারণেই যত চেয়ারম্যান আছে, যত মেম্বাররা রয়েছে, দু একজন বাদে সবাই আমাকে মায়া করেছে। কেন? আমি বলছি, তোমার কেস মামলা আমি দেখব। জানা যায়, শুক্রবার শ্রী মঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকে তিনি এটা বলেন। হাজী মুজিব বলেন, সবাই জানে আমি দল-মতের উর্ধ্বে। আমি বলেছি, আওয়ামী লীগের ভাই, যাদের নামে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে, দুষ্কৃতীরা মামলা দিয়েছে। দায়িত্ব নিচ্ছি এই মামলা আমি তুলে নেব। এখন প্রশ্ন হল, যদি সেটাই হয়ে থাকে, তবে কি তিনি প্রকান্তরে এটা স্বীকার করে নিলেন যে, অন্তবর্তীকালীন সরকার যে মামলাগুলো দিয়েছে, সেগুলি ইচ্ছাকৃত? এক্ষেত্রে কি বেকায়দায় পরল বিএনপি? নাকি তাদের এই স্পষ্ট বার্তা আরও এগিয়ে দেবে?












Discussion about this post