কথায় আছে গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল। এখনো বাংলাদেশের দিকে তাকালে এই বাংলায় প্রবাদ প্রবচনটি মিলে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট তার আবার নাকি ভারতে খেলতে আসায় নিরাপত্তার অভাব! যাই হোক ইউনূস সাহেব ভারতবিদ্বেষ দেখাতে গিয়ে নিজের দেশকেই বড় ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে।ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ আগেই। ইউনূসের সেই যুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন সমস্যায় পড়ে গেল বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম। সূত্রের খবর, আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ কভার করার জন্য ভারতে আসার আবেদন করা বাংলাদেশের অন্তত ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন দেয়নি আইসিসি।শুধু তাই নয়, যেসব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন আগেই মঞ্জুর হয়েছিল, সেগুলিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। তাঁর কথায়, টি-২০ বিশ্বকাপ কভার করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তরফে ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিক আইসিসির কাছে মিডিয়া ছাড়পত্রের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কাউকেই শেষ পর্যন্ত অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া হয়নি।আমজাদ হোসেন আরও বলেন, কয়েকজন চিত্র সাংবাদিককে আগেই ছাড়পত্র দিয়েছিল আইসিসি। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সেই অ্যাক্রিডিটেশনও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুর রহমান যিনি ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ বিশ্বকাপে না খেললেও আইসিসির সদস্য দেশের সাংবাদিকরা সাধারণত অ্যাক্রিডিটেশন পেয়ে থাকেন। এখানে সকলের আবেদন একযোগে খারিজ হওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।এদিকে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত আইসিসির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে? ভারতের পক্ষ থেকে একবারও বলা হয়নি যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তবে এখানেই উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যখন ইউনূস সরকার ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে, তখন ক্রিকেটারদের পাঠানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু সাংবাদিকদের কেন ভারতে পাঠাতে চাইছে বাংলাদেশ? নিরাপত্তার যুক্তিতে যদি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়, তাহলে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই বা সেই যুক্তি প্রযোজ্য নয় কেন—তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে ক্রীড়ামহলে।বিশ্বকাপের আবহে ভারত-বাংলাদেশ ক্রীড়া সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর। তবে মোঃ ইউনুস ও তার সরকার তিলকে তাল করতে চেয়ে ভারতে খেলতে না আসার বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপনা করল যাতে করে আইসিসির কাছেই মুখ পুড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এবার আইসিসির এই কড়া সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমও ব্যান হল আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post