মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল। চরম সংঘর্ষ। বিএপি বনাম জামাত। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির মিছিল বের করে। যেটা বিএনপির বিরুদ্ধে মিছিল ছিল। এই মিছিলের মূল টার্গেট ছিল তারেক রহমান। আর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই মিছিল বের হওয়ার কারণ, শেরপুরের ঘটনা। যেখানে বিএনপি-জামায়েত-ই ইসলামীর সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এই জামায়েত নেতার। নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনা। যা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন, আদেও কি নির্বাচন হবে বাংলাদেশে?
শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জামায়েত নেতার মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়,, শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি-জামায়েত নেতা কর্মীদের সংঘর্ষে আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। রাতে সংঘর্ষে প্রবলভাবে আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন তিনি মারা যান। সূত্রের খবর, ঝিনাইদহতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং জামায়াত-ই ইসলামী নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। তার মধ্যে রেজাউল করিমও ছিলেন। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই সংঘর্ষের ঘটনা চরমে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানান, জামায়েত-ই ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনে চেয়ারে বসে ছিলেন। কিন্তু বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছন দেরি করে। এরপরই তার সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন। এর জেরে অনেকেই চেয়ারে বসতে পারেননি। এই ঘটনার পর মাহমুদুল হক রুবেল এবং নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী সমর্থকেরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এখান থেকেই হাতাহাতি শুরু হয়। চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছই বলিস এবং সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ততক্ষণে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনার পর আজ সকাল থেকে জামায়েত-ই ইসলামীর তরফে একাধিক জায়গায় মিছিল বের হয়। তারা প্রতিবাদ করছে এই ঘটনায়। অনেকে বলছেন, নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা নতুন করে আগুনে ঘি ফেলে দিল। এমনিতেই বাংলাদেশ অশান্ত। এরমধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষে ম-ত্যুর ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি জামায়েত-ই ইসলামীর থেকে অনেক বড় দল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকটাই ছোট দল জামায়েত-ই ইসলামী। কিন্তু তাদের সংগঠন খুব মজবুত। কয়েক মিনিটের মধ্যে দেশের যে কোনও প্রান্তে জামায়েত-ই ইসলামীর নেতা কর্মীরা একটি বড় জমায়েত করে ফেলতে পারে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর থেকেই আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে জামায়েত-ই ইসলামীর। এমনকি অনেকে বলছেন, নির্বাচনের সময় এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে না। এই ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটতে পারে। তখন আদেও বাংলাদেশের পুলিশ বা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে তো? প্রশ্ন উঠছে। কোনও কোনও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু বা নির্বিঘ্নে হয়, তার থেকেও বড় প্রশ্ন আদেও নির্বাচন হবে কিনা!












Discussion about this post