প্রয়োজনের শত্রুকেও পরম বন্ধু করে নিতে হয়। আজ বাংলাদেশের দুটি চরম প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে। অর্থাৎ স্পষ্ট কথাই বলতে ইউনূসের হাত থেকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে মহা জোটে জোটবদ্ধ হতে চলেছে বিএনপি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কোটি কোটি ভোটারের ভোট পেতে বিএনপি কৌশলগতভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করছে এর আগেও বহু প্রতিবেদনে আমরা তা তুলে ধরেছি। এবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এক বক্তব্যে আবারো আওয়ামী লীগের ভোটারের ভোট পাওয়ার জল্পনা উস্কে দিল।
তিনি এক সভার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন
‘এ বার তো নৌকা নেই। নৌকা পালিয়েছে। শেখ হাসিনা ভারতে চলে গিয়েছে। মাঝখানে তাঁর সমর্থনকারীদের বিপদের মধ্যে ফেলে গিয়েছে। আমরা সেই বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’অর্থাৎ এক প্রকার আওয়ামী লীগের ভোটারের মন পেতেই বদ্ধপরিকর বিএনপি এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।সামনেই বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। বুধবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মোলানি বাজার এলাকায় এক পথসভায় যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি সভায় স্পষ্ট করে বলেন ‘আওয়ামী লীগের নিরাপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে বিএনপি থাকবে।’সভায় মির্জার কটাক্ষ, ‘এ বার তো নৌকা নেই। নৌকা পালিয়েছে। শেখ হাসিনা ভারতে চলে গিয়েছে। মাঝখানে তাঁর সমর্থনকারীদের বিপদের মধ্যে ফেলে গিয়েছে। আমরা সেই বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাবে বলছি হিন্দু ভাই-বোনদের, আপনারা কোনও চিন্তা করবেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করছে, তাদেরই শুধু শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদেরকে আমরা বুকের মধ্যে রেখে দেব আগলে’এরই মধ্যে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে নেত্রী হাসিনা ভারত থেকেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ববৃন্দদের বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করছেন এবং আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনে কিভাবে আওয়ামী লীগের ভোটার কে ভোট দেওয়া যায় তারও ভাবনাচিন্তা করছেন অন্যদিকে আবার তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেয় ভোটের স্বার্থে আওয়ামী লীগের পূর্বের শত্রুতা বলে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেওয়াই রাজনীতি।
স্বাভাবিকভাবেই দুয়ে দুয়ে চার করতে অসুবিধা হচ্ছে না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল উল্লেখ করে মির্জা বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা মামলায় এই ছেপড়িকুড়ি এলাকার মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত আপনারা ধানখেতে ছিলেন, বহু ঝামেলা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে সেই ঝামেলা শেষ করা গিয়েছে।’ দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে এখন ভাল হয়েছে বলে মনে করেন মির্জা। তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে এখন একটা সময় এসেছে যেখানে রাতে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।’ তাঁর বিশ্বাস, ‘যদি নির্বাচনটা ঠিকমতো হয় এবং আমরা ঠিকমতো ভোট দিয়ে একটা সরকার নির্বাচন করতে পারি, তা হলে আমরা ভাল থাকব।’এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে মির্জা বলেন, ‘এই শেষ ভোটে আপনারা আমাকে দয়া করে সমর্থন করবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সিদ্ধান্ত দিতে হবে যে আপনারা কী চান। দেশে যদি শান্তি চান, উন্নয়ন চান, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন চান, রাস্তাঘাট চান, ছেলেমেয়েদের চাকরি চান, তা হলে পরীক্ষিত যে দলটা আছে, মানুষটা আছে, তাকেই ভোট দিতে হবে।’
ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখ আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে গতি নেয় এখন সেটিই কোটি টাকার প্রশ্ন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post