দীর্ঘ দেড় বছরের উপরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই হয়তো সে দেশে নির্বাচন হতে চলেছে। কারণ বারংবার মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন করার পক্ষেই তুরুপের তাস চেলে এসেছেন। ভারতবিদ্বেষ ইউনূসের মূল ও প্রধান মূলধন আর সেই প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূসের মন পেতেই উপদেষ্টা মন্ডলীর এক সদস্য আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে একপ্রকার দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিলেন। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়েও গণভোট। তার আগে যুযুধান প্রধান দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশ। পদ্মা পাড়ের দেশটিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই বলে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলসম্পদ মন্ত্রকের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজ়ওয়ানা হাসান কড়া ভাষায় জানায়-‘নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্যদেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার তো কোনও সুযোগ আমরা দেব না’ অর্থাৎ ভারতকে উদ্দেশ্য করেই তিনি একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিলেন বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ প্রধান যুযুধান দুই দল, বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামির মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনা মুহুর মুহুর ঘটে চলেছে বাংলাদেশে।এ প্রসঙ্গের দায় একপ্রকার মেনে নিয়ে রিজ়ওয়ানা বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণই হবে! একদল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, একদল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যা করার প্রয়োজন তাই করবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করবার জন্য কথা বলবে। এটা তো খুব স্বাভাবিক কথা। কোনও কোনও জায়গায় হয়তো ভব্যতা-সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না। সে জন্য সকল দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
অর্থাৎ বাংলাদেশের যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে নির্বাচনকে সামনে রেখে তা একপ্রকার মেনে নিচ্ছে ইউনূসের উপদেষ্টা মহল আর সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারির ছলে ইউনূসের উপদেষ্টার এই বক্তব্য মোটেই ভালো চোখে নিচ্ছে না দিল্লি। যদিও ইউনুস উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সেই ভাবে বিশেষ কিছু জানানো না হলেও ভারত যে ইউনূস ও তার নিযুক্ত উপদেষ্টাদের মতিগতির উপরে নজর রেখে চলেছে তা বিভিন্ন সময়ে দিল্লির বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে যায়।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছিল গত বুধবার অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে দিকে দিকে বিভিন্ন দলের মিটিং মিছিলের মধ্যেই জড়িয়ে পড়ছে সংঘর্ষে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ ইউনুস ও তার অন্তর্বর্তী সরকারের কি পদক্ষেপ হয় এছাড়া আদৌ কি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কিনা সেদিকেই দেখার।।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post