এটা ঠিক কীভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে?
“গায়ে আমার পুলক লাগে চোখে ঘনায় ঘোর”?
না কি “বিস্ময়ে তাই জাগে আমার প্রাণ ”!। অথবা বিলম্বিত বোধোদয়? এটা বললেও অত্যুক্তি হবে না – “এ কি কথা শুনি আজি মন্থরার মুখে। ” কিম্বা রজ্জুতে সর্পভ্রম।
তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস যা বলেছেন, তার প্রেক্ষিতে এই সবকটাই প্রযোজ্য। ইউনূস বলেছেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন কী সে, জালিয়াতিতে। সব জিনিস জাল, বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল। আপনারা নিশ্চই পত্রিকায় দেখেছেন আমেরিকান বেস অব জাল। এটা একটা জালিয়াতির কারখানা বানিয়েছি আমরা। হাজারে হাজারে মানুষ। সব কিছু ভুয়ো। পারমিশন ভুয়ো। ব্যাংক সার্টিফিকেট ভুয়ো।”
এখানেই শেষ নয়। তদারকি সরকার প্রধান আরও বলেছেন, “আমাদের বুদ্ধি আছে, না হলে করতে পারতাম না। কিন্তু খারাপ কাজে লাগাচ্ছে। যে জালিয়াতি করতে জানে, তার আছে ক্রিয়েটিভিটি। আমি মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্রের মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করছিলাম। তারা বহুদিন ধরে আমাদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। বাংলাদেশি কোনও মানুষকে প্রবেশের অধিকার দিচ্ছে না। তাদের বোঝানোর জন্য বললাম আমাদের যে মেরিনার, সারা পৃথিবীতে জাহাজ চালায়, আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। তারা এ শিল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে যায়। তারা যখন ওই দেশের বন্দরে যায় তখন কয়েকদিনের জন্য তারা ছুটি পায়। শহরে গিয়ে তারা একটু ঘোরাফেরা করে। আসা-যাওয়া করতে পারে। জাহাজ ছেড়ে স্থলে আসতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাদের ওই দেশে নামতে দেওয়া হয় না। ” আফশোসের সঙ্গে ইউনূস বলেন, “আমি মিনতি জানালাম যে বেচারারা জাহাজে জাহাজে ঘোরে। অন্তত তাদের জন্য একটু পারমিশন দাও। সেটা শুনে তারা বলে, আমাদের নিয়মটা সবার জন্য প্রযোজ্য। কয়েক মাস পরে শুনলাম মেরিনারদের সেই সুযোগ দিয়েছে। ”
বাংলাদেশ যে কতবড় জালিয়াতির কারখানা হয়ে উঠেছে, সেটা জানাতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বলেন, “ওই মন্ত্রী, যাঁর সঙ্গে মেরিনারদের নিয়ে আলাপ করলাম, তিনি বলেন, দেখেন আপনি বন্ধু মানুষ। আপনাকে পুরো জিনিসটা আমি বলছি। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। কেন বাংলাদেশিদের রিজেক্ট হচ্ছে। শিক্ষার সার্টিফিকেট ভুল। জালিয়াত। বলল একজন মহিলা সে সেখানে এসেছে ডাক্তার হয়ে। তাঁর ভিসা হল ডাক্তার ভিসা। আমি দেখেই বুঝলাম ডাক্তার হওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই। তার চেহারা বলে না সে ডাক্তার। স্টাফরা তাঁর সব কাগজপত্র দেখিয়ে বলল, তার সব কিছু জানাল। মন্ত্রী আমায় বলেন, মহিলা সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন হল তিনি শুধুমাত্র ঘরের কাজ করার জন্যই উপযুক্ত। ”
এসব কথা কোথায় বলেছেন তদারকি সরকার প্রধান? বলেছেন, রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চিন মৈত্রী সম্মেলনে। সেখানে চারদিনের ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো শুরু হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে কোনওভাবেই খোদোক্তি হিসেবে ধরা যায় না। একজন সরকার প্রধান হয়ে তিনি একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দেশের সম্পর্কে এমন একটা চিত্র তৈরি করলেন। ইউনূসের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। আর তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে চর্চা। নিন্দুকেরা বলছে, তাঁর মুখের বাণী সুধার মতো লাগছে। তিনি নিজেই তো জালিয়াতি করে ক্ষমতায় বসেছেন। হাসিনাকে কীভাবে তিনি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, তা আর কারও জানা বাকি নয়। এখন বিদায় বেলায় হয় আত্মস্লাঘায় ভুগছেন। না হলে এই সব বলে তিনি তাঁর প্রিয় দেশোবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চাইছেন। কিন্ত দেশবাসী কি তাঁকে ক্ষমা করবে? বাংলাদেশ তো আজ সব দিক থেকেই পিছিয়ে। শুধুমাত্র জালিয়াতিতে এগিয়ে, যেটা ইউনূস স্বীকার করে নিয়েছেন।












Discussion about this post