“সত্যং ব্রূয়াৎ প্রিয়ংব্রূয়াৎ মাব্রূয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম”।
মোটা দাগে বাংলা করলে দাঁড়ায় সত্য কথা বলা ভালো। অপ্রিয় সত্য কখনই নয়। প্রতিবেদনের সূত্রে সেই অপ্রিয় সত্যটাই বলতেই হচ্ছে।
শত হলেও বাংলাদেশ হল পাকিস্তানের জাতভাই। পাকিস্তানের গর্ভেই তো সে দেশের জন্ম। নাড়ির টান তারা কীভাবে অস্বীকার করবে। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সেই নাড়ির টান ছিন্ন করেছিলেন। তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস আবার সেটা আবার জুড়ে দিয়েছেন। তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। বিষয়টা এতোদিন পর্যন্ত রাজনীতির আঙিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রাজনীতির সীমা অতিক্রম করে সেটা এখন ২২ গজে ঢুকে পড়েছে। বলা ভালো প্রবেশ করিয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে পাকিস্তান। যে ক্রিকেটকে মানুষ ভদ্রলোকের খেলা বলেই এতোদিন জেনে এসেছে, সেই ভদ্রলোকের খেলাকে বাংলাদেশ এতটাই নীচে নামিয়ে এনেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশ কার্যত আইসিসিকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গেলে আয়োজক সংস্থাকে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়, সেটা যারা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তারা বেশ ভালোই জানেন। তাই, আচমকা কোনও দেশ যদি বলে বসে যে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে, সেটা যে সম্ভবপর নয়, সেটা বাংলাদেশকে বোঝাবে কে? আর ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে পাকিস্তান। অনেকে এখন বলছে, যে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পিছনে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত ছিল। ইসলামাবাদ জানে, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এখন কেমন। এই সুযোগে তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। আইসিসিকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে পাকিস্তান নিজেরাই বেকায়দায় পড়ে গিয়েছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয় যে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও ভেন্যু বদলের দাবি তুলবে, তাহলে আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। দরকার হলে নির্বাসন পর্যন্ত দিতে পারে। এই প্রসঙ্গে পাক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদের কথা বলা যেতে পারে। ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ে যান এই পাক ক্রিকেটার। তাকে চার মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। আইসিসি যে কোনও দল বা খেলোয়াড়ের অক্রিকেটিয়সুলভ আচরণ বরদাস্ত করবে না, সেটা অতীতে নেওয়া তাদের একাধিক পদক্ষেপ থেকে পরিষ্কার। ২০২৪-য়ে হাসিনা সরে যাওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল ধরে। অপরদিকে অতীতে তলানিতে চলে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হতে শুরু করে। এর সেই উন্নত সম্পর্কের জেরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক হার্দিক হয়েছে। বাহিনী শীর্ষকর্তারা একে অপরের দেশে সফর করেছেন। সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময় হয়েছে। এই নিয়ে দিল্লি যেমন উদ্বিগ্ন, সমান উদ্বিগ্ন আমেরিকা।
কিন্তু নকভির হুমকি কোনও কাজেই এল না। শোনা যাচ্ছে পাকিস্তান টিমের জন্য কলম্বোর টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কটের দিকে যাচ্ছে না। পাকিস্তানের দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। সূত্রের খবর, বিশ্বকাপ বয়কট করার বিষয়ে নকভি তাঁর দেশে খুব একটা সমর্থন পাচ্ছেন না। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, সামরিক বাহিনী, পিসিবির প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান নাজম শেঠ এবং রামিজ রাজারও পরামর্শ নিয়েছিলেন নকভি। তারা বলেন, সিদ্ধান্ত মোটেই বিচক্ষণ নয়। এমনকী ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট না করারও তারা পরামর্শ দিয়েছেন।
লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের অধ্যাপক আলী খানের পাকিস্তানের এই বাংলাদেশ-প্রীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন ঠিকই। তবে বয়কট করার সিদ্ধান্তকে বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে বলে তাঁর অভিমত। তাঁর মতে, ২২ গজের বিষয়টি ২২ গজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক। আর কূটনৈতিক চ্যানেলে চলুক কূটনীতি। তবে প্রবীণ ভারতীয় ক্রিকেট সমালোচক শারদা উগ্রের মতে, পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপ একটি জোট তৈরির লক্ষ্য হতে পারে। পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে ক্রিকেট ভক্তরা হতাশ হতে পারেন। আর এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল হতে পারে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post