আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। যুদ্ধ তো নয়। কিন্তু যেভাবে সরকারের তরফে নির্দেশ আসছে, তাতে মনে হচ্ছে, যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার। আমরা জানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক থাকতে বলে সরকার। কিন্তু ভোট আসার আগে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালগুলিতে তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে কি এই নির্বাচনের আগে ও পরে প্রচুর সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে? তাই এই নির্দেশ অন্তর্বর্তী সরকারের?
দেশের সমস্ত হাসপাতালকে নির্বাচন কেন্দ্রিক রেড অ্যালার্ট জারি করার মতো নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। ৯ টি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে হাসপাতালগুলিতে। সতর্ক অবস্থা, জরুরি বিভাগে লোক বাড়ানো এবং সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। হঠাৎ এই নির্দেশনা কেন? জানা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে দশটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্বাচন চলাকালীন ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দশই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব সংস্কৃত সেবা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতা প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। রবিবার অধিদপ্তরে পরিচালক ডক্টর আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহসান এই নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ছটি, বিভাগীয় পর্যায়ে চারটি, জেলা পর্যায়ে তিনটি, উপজেলা পর্যায়ে দুটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। জনবলের প্রাপ্যতা এবং প্রয়োজনীয়তা ভিত্তিতে মেডিকেল টিমের সদস্য নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা স্বাস্থ্য প্রশাসক। এছাড়াও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জরুরী বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বক্ষণের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখারও দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশনাবলীতে। ওই নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কোন কারনেই প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটিতে থাকলে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলোর প্রতিও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক। এছাড়াও জরুরী পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরী বিভাগ, অন্তবিভাগ, ল্যাব, ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেন্টার নিয়মিতভাবে খোলা রাখতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্ঠা কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচন উপলক্ষ্যে মেলা বসান। উৎসবমুখর করতে হবে। এদিকে তারই স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন নির্দেশিকায় অনেকে শঙ্কায় ভুগছেন। ভোট উৎসবমুখর থেকে এখন মনে হচ্ছে, ভোটকে সুনামি হিসাবে দেখছেন তারা। অন্তত তাদের নির্দেশনায় এমনই মনে হচ্ছে। তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও সরকারের তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত বছর নভেম্বরে ১৩ ও ১৭ তারিখ। এই দুটি তারিখককে কেন্দ্র করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল দেশে। সরকারের তরফে প্রস্তুতি ঠিক এমনই ছিল। ১৩ তারিখ ছিল শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার দিন। আর ১৭ তারিখ তার সাজা ঘোষণা হয়েছিল। কারণ এই দিনগুলি আওয়ামী লীগ শাট ডাউন কর্মসূচি পালন করেছিল। আর সরকারের তরফে প্রস্তুতি যুদ্ধাবস্তার আয়োজনের মতো ছিল। এখনও সেটাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর যখন এই নির্দেশিকা গণমাধ্যমে উঠে আসে, তখন জনমতে একটি ভীতি তৈরি করবে। তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবে? কীভাবে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরই বা কি ভূমিকা থাকবে? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।












Discussion about this post