“কথা বলো না, কেউ শব্দ করো না, / ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন /গোলোযোগ সইতে পারেন না। / একদা উষকালে মজিয়া লীলাছলে, / ভগবান বিশ্ব গড়িলেন / কালে কালে জীর্ন হলো, বাগানখানা শুকিয়ে এলো, আর জমিদারি দেখতে পারেন না।”
বাংলা রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে ইস্তক যাদের পরিচয় আছে, তারা সকলেই জানেন, এটা কোন নাটকের গান। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, এই গান বাংলার অন্যতম বিখ্যাত নাটক নরক গুলজারের। নাটকের এই গানের সঙ্গে প্রতিবেদনের ভীষণ মিল। প্রতিবেদনের ভগবান পদ্মাপারের তদারকি সরকার প্রধান। তিনি একদম গোলোযোগ পছন্দ করেন না। আর নিদ্রা গেলে তো মোটেই নয়। এই দেড় বছরের মধ্যে কতবার যে তাঁর নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে, তার হিসেব নেই। বারবার তাঁর সুখনিদ্রা ভেঙেছেন হাসিনা, দিল্লিতে বসে। বিগত সময়ে তিনি একাধিকবার গণমাধ্যমে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁর প্রতিটি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের মাটি কেঁপে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আবার তিনি মুখ খুলেছেন। একবার নয়, দু বার। প্রথম বার অডিও বার্তা, দ্বিতীয়বার ভারতের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। অডিও বার্তার থেকেও ভারতের গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার রীতিমতো বিস্ফোরক। তাঁর ঝাঁঝ এতটাই তীব্র যে তদারকি সরকার প্রধানের ঘুম তো উবে গিয়েছে, ঘুম উধাও তার নবরত্ন সভার সদস্যদের।
দলীয় কর্মীদের জন্য হাসিনার বার্তা “যেখানে ব্যালটে নৌকা নেই, সেখানে কেউ ভোট দেবে না। কেউ ভোট দিতে যাবেন না। আমি আমার আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের বলব যে, যেখানে আওয়ামী লীগ ইলেকশন করতে পারছে না… ইলেকশন করতে দিচ্ছে না… আমি ইলেকশন করতে চাই। ঠিক আছে। আমরা চাই আওয়ামী লীগ ইলেকশন করবে… অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ তাঁর মতামত দেবে .. জনগণ যে ম্যানডেট দেবে আমরা সেটা মাথা পেতে নেব। আওয়ামী লীগ ভালো কি মন্দ, সেটা ইউনূসের মতো একটা দুষ্কৃতীকারীর মুখে শুনতে চাই না। জনগণ বলুক … জনগণ দেখাক… কাজেই আমি এটাই চ্যালেঞ্জ দেব .. যে ভোটের মধ্য দিয়ে মানুষ সিদ্ধান্ত নিক… জনগণ…তারা কাকে চায় ?”
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের সব থেকে জ্বালা ধরিয়েছে হাসিনাকে হাতে না পাওয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। হাসিনাকে ফেরতে পেতে চেয়ে দিল্লির কাছে নোট ভার্বাল পাঠায়। দিল্লির জবাব ছিল খুব সংক্ষিপ্ত – Let it be examined. এক জবাবেই ঢাকার হাসি “না” হয়ে যায়। আর বঙ্গবন্ধু কন্যাও বুঝে যান দিল্লি তাঁকে খেলার জন্য খোলা মাঠ দিয়ে দিয়েছে। একে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। তারওপর রয়েছে দিল্লির প্রত্যক্ষ মদত। অন্তর্বর্তী সরকার সেটা আস্কারা হিসেবেই দেখছে। দিল্লি থেকে হাসিনার অডিও বার্তায় যে তদারকি সরকারকে চটিয়েছে, সেটা তাদের প্রতিবাদের ভাষা থেকে পরিষ্কার। কিন্তু দিল্লিরশ্বরদের তাতে কিছু যায় আসে না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। আর তাতে লাগাতার ঘি ঢেলে চলেছেন হাসিনা। সর্বশেষ তাঁর সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন দেশে ফেরার পর তাঁর আশু কর্তব্য কী হবে।
এই সাক্ষাৎকার তদারকি সরকারের মেজাজ হারানোর পক্ষে যথেষ্ঠ। হাসিনা বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশে তিনি ফিরছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন রুখে দেওয়ার ক্ষমতা তদারকি সরকারের নেই। দিল্লি যেমন তাঁর পাশে রয়েছে, পাশে রয়েছে ডিপ স্টেট। তবে ডিপ স্টেটের পাশে থাকার কারণ কিন্তু ভিন্ন। বাংলাদেশের সঙ্গে চিন ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা। আগামীদিনে এই ঘনিষ্ঠতা গাঢ় হলে যে তাদের বিপদ সেটা তারা বুঝতে পেরেছেন। অতএব, শুভস্য শীঘ্রম্ অশুভস্য কালহরণম্। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কখন আসে, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা দুনিয়া।












Discussion about this post