রাজনীতি হবে। ভোট হবে। ভোটের প্রচার হবে। অথচ কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হবে না, সেটা হতেই পারে না। আগে এটা দেখা যেত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে। এখন ভোটের প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বাদ যাচ্ছে না ইউরোপের দেশগুলিও। প্রতিবেদনের বিষয় বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশকে কেন্দ্র করেই আলোচনা করা যেতা পারে। এই প্রতিবেদনের বিষয় তারেক রহমানের ঘরওয়াপসি।
প্রথমত তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর মা যখন মৃত্যুশয্যায়। সেই সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আবেগমাখা বক্তব্য পেশ করেছিলেন। সেই বক্তব্য শুনে অনেকে নিশ্চিত ছিলেন যে জিয়া-পুত্র সব বাধাকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে ফিরছেন। তারেক সিদ্ধান্ত বদল করেন। তাঁর এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার কারণ মূলত ছিল সেনাকে নিয়ে। তারেক জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার সম্পর্ক একসময় কেমন ছিল, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাঁর অবস্থা যে শোচনীয় হয়ে উঠত, সে ব্যাপারে তিনি যেমন নিশ্চিত ছিলেন, নিশ্চিত ছিল তাঁর দল। ফলে, বাস্তব পরিস্থিতি তাঁকে তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য করে। বলা হচ্ছে, তারেককে কোনও প্রান্ত থেকে সবুজ সংকেত দেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তারপর থেকে একটা প্রশ্ন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঘোরাঘুরি করতে থাকে, কোন প্রান্ত থেকে জিয়া-পুত্রকে দেওয়া হয়েছিল সবুজ সংকেত। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
২২ জানুয়ারি থেকে তিনি শুরু করেছেন ভোটের প্রচার। ওই দিন কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় একটি জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। জনসভা থেকে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছেন। প্রথমত, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল যারা, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র কিনতে হলে ভারতের অনুমতি নিতে হবে এবং ভারতের অনুমতি ছাড়া কোনো অস্ত্র কেনা যাবে না। তৃতীয়ত, এ দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোকে দমন করতে হবে। এই খবরের প্রতিবাদ করেনি বিএনপি।”
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোরের সঙ্গে বলেন, ভারত থেকে ফোনে আনন্দবাজার পত্রিকা তাঁকে জিজ্ঞাসা করে – আপনারা কি হিন্দুদের জায়গা দখল করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, “এদেশে হিন্দুদের অনেক জায়গা বেদখল হলেও জামায়াতের কারও মাধ্যমে তা হয়নি। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভারত যাদেরকে বন্ধু ভাবে, তারাই হিন্দুদের সম্পদ লুট করে। জামায়াত কখনো হিন্দুদের সম্পদ দখল করেনি।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাহের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, “এই দেশ মৌলবাদীদের হবে, নাকি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে।” আমি বলতে চাই, আগামী নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশ কি আবার চাঁদাবাজদের দখলে যাবে, নাকি একটি গণতান্ত্রিক সমঅধিকার, সব মানুষের মুক্তির নতুন বাংলাদেশের দিকে যাবে।’
মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ মন্তব্য করে বিএনপির পাল্টা দাবি, ‘ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনও চুক্তির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা।রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথাগুলো বলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন বলেন, জামায়াতের প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির যে দাবি করেছেন, তার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং পারবেনও না। তাঁর কথায়, ‘যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার ন্যূনতম কোনও বাস্তবতা বা সত্যতা নেই। ফলে এটি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির অপকৌশল কিংবা অপপ্রচার বলেই আমরা মনে করি।’












Discussion about this post