“ আরএই পুরাতন পুঁথি-টুঁথি যা কিছু আছে পণ্ডিত-টণ্ডিতের কাছে, সব করে ফেল ভস্ম। … এই পুরাণ… কাব্য… বেদ… স্মৃতি… সংহিতা … ইতিহাস ….সব দূর দূর করে ফেল”।
প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সূত্রে হীরক রাজা এই সংলাপের উল্লেখ করতেই হচ্ছে। হীরক রাজা বলেছেন, তাঁর মূর্তি উন্মোচনের দিন থেকে শুরু হবে হীরক অব্দ। তাই, পুঁথি, পুরাণ, কাব্য বেদ ইত্যাদি আর রাখার প্রয়োজন নেই। কারণ হীরক অব্দে এগুলোর কোনও মূল্য আর থাকবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। একই দিনে তদারকি সরকার চাইছে গণভোট করিয়ে নিতে। এইখানে হীরক রাজার ওই সংলাপের সঙ্গে তদারকি সরকারের গণভোটের উদ্দেশ্য ভীষণভাবে সম্পৃক্ত। তদারকি সরকারের তরফ থেকে বারে বারে একটা কথাই বলা হচ্ছে জুলাই সনদ সংবিধানের ওপরে জায়গা পেয়েছে। জুলাই সনদ গণভোটে হ্যাঁ ভোট পেয়েছে। এটি সংবিধানের ওপরে জায়গা পেয়েছে। তাই, সংবিধানের যথাযথ সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তদারকি সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা আলী রিয়াজ ইতিমধ্যে একটা নীল নকশা তৈরি করে ফেলেছেন। সেই নীল নকশা সংবিধানের আশু সংশোধন নিয়ে। তিনি ইতোমধ্যে তাঁর পছন্দের রাজনৈতিকদলগুলির শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই নিয়ে একটি বৈঠকও করে ফেলেছেন। সেই বৈঠকে তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন সংবিধানের কোন কোন অংশের সংশোধন প্রয়োজন। আর বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিকদলের প্রতিনিধিরা তাতে সম্মত হয়েছেন। অর্থাৎ, তদারকি সরকার চাইছেন বাংলাদেশের সংবিধানের বিলোপ সাধন করে জুলাই সনদ কার্যকর করা। আর সেটা কার্যকর করতে পারে, তদারকি সরকার প্রধান ক্ষমতায় আরও ছয় মাস থেকে যাবেন। আলী রিয়াজকে ইউনূস তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন হিসেব করেই।
আলী রিয়াজ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে পরবর্তী সংসদ। ” গণমাধ্যমকে তিনি এটাও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন অতীতের সব নির্বাচন থেকে আলাদ। তদারকি সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা বলেন, “ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতে অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মতো নয়। কারণ, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৪-য়ের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে। যারা একে অতীতের মতো সাধারণ নির্বাচন মনে করছেন, তারা ভুল করছেন। যদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলগুলি এই পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝতে না পারে, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য বড়ো বিপদ অপেক্ষা করছে। ”
তিনি আরও বলেন,“ ৭২,’৯১, এবং ২০০৯ সালে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ এলেও রাজনৈতিকদলগুলির ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়নি। এবারের অভ্যুত্থান সেই সুযোগ আবার করে দিয়েছে। ”সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর পিছিয়ে যাবে কি না এই প্রশ্ন করা হলে আলী রীয়াজ বলেন, “ সংসদ সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করলে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা তৈরি হবে – এমন ধারণা মোটেই সঠিক নয়। সংসদ প্রথম দিন থেকেই নির্বাচিত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক কার্যাবলী, যেমন সরকার গঠন, দেশ পরিচালনা ও বাজেট তৈরির কাজ করবে। তবে বিদ্যামান সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরিয়ে আনতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদাভাবে শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করবেন।”
জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক দলগুলির অঙ্গীকার এবং জনগণের মধ্যে একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে অভিহীত করে তদারকি সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা বলেন, “ এটি অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব এজেন্ডা নয়। ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ তৈরি হয়েছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলি মনে করে এটি বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল, তবে রূপান্তরের সম্ভাবনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ”
বাইট আলী রিয়াজ
TC
00.0 – 01. 02












Discussion about this post