অদৃশ্যমান থেকেও প্রবলভাবে দৃশ্যমান হওয়াটা যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, সেটা বাংলাদেশের দিকে তাকালে বোঝা যাবে। হাসিনা বাংলাদেশে নেই। তিনি রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁর দল যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য তদারকি সরকার প্রধান এবং নির্বাচন কমিশন সাঁট করেছে। তবুও আওয়ামী লীগের ছায়া বাংলাদেশজুড়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দলীয় কর্মীদের দায়িত্ব কী হবে, সেটাও হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন। এদিকে আবার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তদারকি সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীও সব দিক থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রস্তুত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি ঘটছে। ঝড়ছে রক্ত, পড়ছে লাশ। বাংলাদেশে আদৌ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে কি না, সেই প্রশ্ন রীতিমতো চড়কির মতো ঘুরপাক করতে শুরু করেছে।
সব দেশে সব ধরনের নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রের দিকে নজর থাকে সকলের। ব্যত্যয় ঘটেনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। পদ্মাপারের বেশ কয়েকটি আসন এখন সংবাদমাধ্যমের নজরে। নজরে পড়ার আরও বড়ো কারণ এই ভোটে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে, অতীতে যে সব কেন্দ্রগুলি তাদের দূর্গ বলে পরিচিত ছিল, সেই সব কেন্দ্রে ওই দলের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা হিসেব করছেন। আর আওয়ামী ভোট টানতে তৈরি বাকিরা। তেমনই একটি কেন্দ্র গোপালগঞ্জ।
গোপালগঞ্জ ২ আসনে স্বতন্ত্রভাবে লডা়ই করছে আওয়ামী লীগের শিপুন ভুঁইয়া। প্রবাসী। তাঁর প্রতীক ঘোড়া। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দেশে ফিরেছেন। শিপুনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও “নিউজ বর্তমান” সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় “যেদিন দেখছি যে বঙ্গবন্ধু মাথায় প্রস্রাব করা হইসে, সেইদিন আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করসি যে গোপালগঞ্জ ২ আসনে সংসদ নির্বাচন করব। ”
এই গোপালগঞ্জে প্রচারে এসেছিল এনসিপি। এলাকাবাসির তাড়া খেয়ে তাদের পালিয়ে আসতে হয়। ফলে, তারা এই গোপালগঞ্জ থেকে কত ভোট টানতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। গত ২২ জানুয়ারি মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রচার শুরু করেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব। দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রচারনার শুরুতে হাবিব বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রচার শুরু করাটা সমীচিন বলে তাঁর মনে হয়েছে। সব থেকে বেশি নজর কিন্তু গোপালগঞ্জ ৩ আসনের দিকে। সার্বিকভাবে গোপালগঞ্জের দিকে।
গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে তিনটি আসনেই নৌকা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। নৌকার বিপরীত প্রার্থীদের অধিকাংশের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ত্রয়োদশ নির্বাচনে এই কেন্দ্রের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামি মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। গোপালগঞ্জ ২ আসনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী পেশায় আইনজীবী আজমল হোসেন সরদার। শেষবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। নির্বাচনে যেহেতু আওয়ামী লীগ, তাই তারা তাদের প্রার্থীর সমর্থনে ওই দলের ভোট টানার চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা বিএনপির। তাদের নজর নৌকার ভোট ব্যাংকের দিকে। গোপালগঞ্জ ২ আসনে তাদের প্রার্থী কে এম বাবর বলেন, “ এবার আওয়ামী লীগ নেই। সাধারণ মানুষ ধানের শিসে ভোট দেবে। ” সেই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, বিএনপি আগামীদিনে প্রতিশোধের রাজনীতি করবে না। জামায়াত প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “দলটি একটি গুপ্ত সংগঠন। তারা সবসময় অন্য দলের ওপর দায় চাপায়। বিএনপির সঙ্গে এই সব ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির দাবি, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হ্রাস পেয়েছে। সেটা এখন প্রায় ১০ শতাংশের নীচে। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বড়ো পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন অনিশ্চিত থাকায় নৌকা ভোটারদের সমর্থন দখল করতে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর তৎপরতা বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত নৌকা ভোটারদের সিদ্ধান্ত হাইকম্যান্ডের নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।












Discussion about this post