দেশের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় চমক দেখাল ভারত।
আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫২টি নজরদারি অ্যাডভান্সড মিলিটারি নজরদারি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। এই প্রকল্পের নাম ‘SBS-3’। এই প্রকল্পের জন্য সরকার বরাদ্দ করেছে ২৬ হাজার কোটি টাকা। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, প্রথম স্যাটেলাইটটি পাঠানো হবে এই বছর এপ্রিলেই। তবে সোমবার, ১২ জানুয়ারি সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে পিএসএলভি সি-৬২ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দেয় কৃত্রিম উপগ্রহ অণ্বেষা। এটিকেও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে শত্রুর ওপর নজরদারির জন্য। এই উপগ্রহের পোশাকি নাম ইওএসএন-১। নজরদারির জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই উপগ্রহ মহাকাশ থেকে ছবি তুলতে পারবে। তৈরি করতে পারবে নির্ভুল মানচিত্র। একই রকেটে পাঠানো হয়েছে আরও ১৪টি কৃত্রিম উপগ্রহ। যার মধ্যে রয়েছে ভারতের বেসরকারি সংস্থা “ধ্রুব স্পেস”-এর সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এ ছাড়াও রয়েছে ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজিল-সহ বিভিন্ন দেশের মোট আটটি কৃত্রিম উপগ্রহ।
আসা যাক ‘SBS-3’প্রকল্পের বিষয়ে। বলা হচ্ছে, এই প্রোগ্রামটি সফল হলে ভারত আকাশ থেকে অনেক বেশি নির্ভুল নজরদারি করতে পারবে। এই স্যাটেলাইটে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর। দিনের আলোয় ছবি তোলার জন্য রয়েছে ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল ক্যামেরা। মেঘ বা আবহাওয়া খারাপ থাকেলও ছবি তোলার ক্ষেত্রে সেটা যাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে, তার জন্য রাখা হয়েছে সিন্থেটিক অ্যাপারচার র্যা ডার। আর রাতে ছবি তোলার জন্য এই উপগ্রহে রাখা হয়েছে ইনফ্রারেড সেন্সর। মোট ৫২টি নজরদারি উপগ্রহের মধ্যে ২১টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। বাকি ৩১টি বেসরকারি সংস্থা। এটি হতে চলেছে ভারতীয় সামরিক মহাকাশ খাতে বেসরকারি পর্যায়ে বৃহত্তম অবদান। সূত্রের খবর, এই সব স্যাটেলাইট বিভিন্ন কক্ষপথ পরিক্রমা করবে। মূলত চিন, পাকিস্তান আর ভারত মহাসাগরের ওপর নজরদারির জন্য এগুলিকে মহাকাশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পের দৌলতে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে অনেক বেশি তথ্য চলে যাবে। বিশেষ করে চিন এবং পাকিস্তান গোপনে কী অভিসন্ধি করছে, তার আগাম খবর পেয়ে যাবে ভারত। ফলে সামরিকবাহিনীও প্রস্তুতি নিতে পারবে। সীমান্তে সুরক্ষার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তার বিষয়ে দিল্লি অনেকটা নিশ্চিত হতে পারবে।
গত ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লির কর্তব্যপথে দেখা মিলেছিল সেনার গুপ্তচর ঈগল অর্জুনকে। অর্জুন নামের এই শিকারি ঈগল এখন ভারতের অপ্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত্রুর ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক প্রতিব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য রিমাউন্ড অ্যান্ড ভেটেরিনারি কর্পস দ্বারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেটা সাধারণতন্ত্র দিবসের আগেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ডানাওয়ালা যোদ্ধাদের অভিষেক ঘটতে চলেছে এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসে।
কেন SBS-3’প্রকল্পের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা থেকে। একাংশের দাবি, অপারেশন সিঁদুরের- এর সময় কিছু উপগ্রহ রাত ও মেঘলা আবহাওয়ায় কার্যকর তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে, একাধিক সীমান্ত অঞ্চলে তথ্যের ঘাটতি দেখা যায়। এই প্রকল্প জাতীয় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ভারতের মহাকাশভিত্তিক নজরদারিকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শত্রুপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল হল প্রতিরক্ষাখাতে প্রযুক্তির দিক থেকে আধুনিক করে তোলা। আগামী দিনে প্রয়োজনে শত্রুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়ার ক্ষেত্রে উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনেকটাই সাহায্য করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে পালাবদলের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান কাছাকাছি এসেছে। আর মাঝখান থেকে চিনের দাপাদাপি বেড়েছে। তাদের আধিপত্যকে খর্ব করতে এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সামরিক দিক থেকে চাপে রাখতে ভারত এই পদক্ষেপ করেছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post