হয় আমেরিকা ঠিক করে দিয়েছে কারা ক্ষমতায় আসছে, নয়তো তারা বুঝে গেছে এই নির্বাচনকে তারা বৈধতা দিতে গেলে তাদের ভাবমূর্তিই খারাপ হবে। মানুষ বুথে বুথে গিয়ে ভোট তো দেবে, কিন্তু সরকার গড়বে তারাই যাদের ইউনূস সাহেব ঠিক করে দিয়েছেন। কিন্তু কাদের তিনি ঠিক করে দিয়েছেন বা আমেরিকা কাকে চাইছে, এটি স্পষ্ট নয়। লন্ডনে গিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক করাটাকে ভালো চোখে দেখেনি ছাত্র নেতারা। তারা ধরেই নিয়েছিল যে ইউনূস সাহেব লন্ডনে গিয়ে সেজদা দিয়ে এসেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার শর্তে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনছেন। কিন্তু ভোট যত এগিয়ে আসছে মনে হচ্ছে তিনি জামাতের দিকে ঝুঁকে আছেন, যেভাবে জামাতকে কলঙ্কহীন ভাবে প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে, মনে হচ্ছে তারা স্বাধীনতার যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। তারা এখন নিজেদেরকে মহান এবং উদার করে তৈরী করতে শুরু করেছেন। এক জনও নারী প্রার্থী না থাকা স্বত্বেও তারা নারীদের ক্ষমতা এবং স্বার্থ ও সম্মান রক্ষায় জোর দিচ্ছেন এবং প্রস্তুত হচ্ছেন।।
নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক বৈধতার স্বপ্ন কি ভেঙে পড়ছে? জাতিসংঘের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ‘না’ শুধু কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। সরকার যেটিকে আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছিল, বিশ্বশক্তিগুলো কেন সেটিরসাক্ষী হতে চাইছে না?
যদিও এয়ার বাস কেনার লোভ দেখিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের নির্বাচনে সাক্ষী হতে সম্মত করিয়েছেন ইউনূস সাহেব।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে উড়োজাহাজ সরবরাহে ইউরোপের বিমান নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাসের প্রস্তাবের প্রতি যৌথভাবে সমর্থন জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের দূতরা।কিন্তু ইউনূস সাহেব যেটিকে শূন্যস্থান পূরণ হিসাবে দেখছেন,সেটিই গোটা বিশ্বের কাছে বড় সড় প্রশ্নচিহ্ন আকারে দেখা দিয়েছে। এই যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোন পর্যবেক্ষক আসছে না এটি শুধুই একটি বার্তা নয়। এটি এই অবৈধ সরকারের গালে একটি থাপ্পড়। অর্থাৎ তারা বুঝে গেছে এই নির্বাচনকে কোন ভাবেই বৈধ করা যাবে না। তাই তারা দূরত্ব তৈরী করেছে।এটি ইউনূসের সাজানো নির্বাচনের কফিনে শেষ পেরেকও বলা যেতে পারে।।
এদিকে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না জাতিসংঘ। গত সোমবার সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের কার্যালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকের কাছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনটি প্রশ্ন করা হয়। প্রথম প্রশ্নটি ছিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।
জাতিসংঘ কি এ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে— কিন? প্রশ্নের জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র দুজারিক বলেন, ‘না। সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট ছাড়া জাতিসংঘ নিজে থেকে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায় না। ফলে আমরা এখন আর এটি করি না। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কান্ট্রি অফিস প্রায়ই কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা এ ধরনের কোনো সহায়তা দিচ্ছে কি না, তা আমি আপনাদের জেনে জানাতে পারি।’ ফলে যে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন শুরুর আগেই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার কতদিন টিকবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post