হাসনাত আবদুল্লার কথা মনে আছে?গত বছর লাগাতার বাংলাদেশের এই নেতা শিলিগুড়ি করিডোর ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে এসেছে। এমনকী এ কথাও তার মুখে শোনা গিয়েছে যে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীনেতাদের তারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে চিকেন কেন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেবে। চিকেন নেক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। যে অঞ্চল ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাতটি অঙ্গরাজ্যকে জুড়েছে। ভারত এই হুমকিকে একেবারেই হাল্কা চোখে দেখছে না। তাই, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতর্কিতে হামলা হলে দ্রুত সেখানে যাতে সেনাবাহিনী পৌঁছে যেতে পারে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে নতুন সেনা ছাউনি। সেভেন সিস্টার্সকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তরুণ-তুর্কি নেতাদের হুমকির প্রেক্ষিতে ভারত এক নতুন রণকৌশল নিয়েছে। সেই রণকৌশল হল বাংলাদেশের চিকেন নেককে মুহূর্তের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কৌশল।
সূত্রে পাওযা খবরে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের ওই সংকীর্ন রাস্তা দিয়ে চট্টগ্রাম সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি। ড্রোন ফুটেজে দেখা গিয়েছে শিলিগুড়ি করিডোরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। সূত্রের খবর, চট্টগ্রাম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থকর্তারার রেইকি করেন। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে এই মূহূর্তে চলছে ভারতীয় সেনার গোপন অপারেশন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই তৎপরতার পিছনে রয়েছে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অভিভাবক এখন তারা। কিন্তু চট্টগ্রামে ভারতীয় সেনার পদক্ষেপে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশ চাপে পড়ে গিয়েছে। তাদের আরও চাপ বাড়িয়েছে স্থলসেনার নতুন ইউনিট ভৈরব বাহিনী। তাদের সঙ্গে আরও একটি বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে রুদ্র ব্যাটিলিয়ন। বলা হচ্ছে ভৈরব লাইট কম্যান্ডো ব্যাটিলিয়ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর চলমান আধুনিকীরণের ক্ষেত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ। চলতি বছর সাধারণতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজে প্রথম এই বাহিনীর আত্মপ্রকাশ। প্রশ্ন হল, এই ভৈরব বাহিনী কী?
ভৈরববাহিনী হল একটি হালকা কম্যান্ডো ইউনিট। এটি ২০২৫ সালের শেষদিকে গড়ে তোলা হয়। সাধারণ পদাতিকি বাহিনীতে থাকে ৮০০ জন সৈন্য থাকে। তুলনামূলকভাবে ভৈরববাহিনীতে থাকে মাত্র ২৫০ সদস্য। এর প্রত্যেকে উচ্চপ্রশিক্ষত। এদের নেওয়া হয় পদাতিক, আর্টিলারি, সিগন্যাল, বিমানবাহিনী থেকে বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে তৈরি হয় ভৈরবাহিনী। এই ব্যাটিলিয়ন তৈরির মূলে রয়েছে ভারতীয় সেনার কৌশলগত মূল্যায়ন। বেশ কয়েকটি ভৈরব ব্যাটিলিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ মহড়া ও প্রস্তুতিমূলক অভিযানে মোতায়েন করা হয়। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আগামী মাসগুলিতে ২৫টি পর্যন্ত এই ধরনের ব্যাটিলিয়ন তৈরির পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যার মধ্যে একাধিক ইউনিট সংবেদনশীল সীমান্তগুলিতে সম্পূর্ণরূপে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাউথব্লক।
সেনাবাহিনীকে নতুন চারটি গ্যারিসন তৈরির অনুমতি দিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। এই চারটি গ্যারিসন তৈরি হবে চোপড়া, ধুবড়ি, কিষণগঞ্জ এবং মিজোরামে। এই চারটির মধ্যে মিজোরামের ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরসরি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের খুব কাছাকাছি। বলা যেতে পারে, চট্টগ্রামের দরজার কাছেই। সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ঢাকা থেকে ভারতের সরবরাহ লাইন বন্ধ করার চেষ্টা হয়, সে ক্ষেত্রে ভারতের এই চারটি ঘাঁটা পাল্টা আঘাত করার জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে মিজোরামের সেনা ছাউনি থেকে ভারতীয় সেনা চট্টগ্রামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মোকাবিলা করতে পারবে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিচ্ছিন্নতাগোষ্ঠী। এরা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। ভারত চাইলে চট্টগ্রামের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দিয়ে বাংলাদেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। সূত্রের খবর, ভারতের তেজপুর এয়ারবেসকে ঢেলে সাজাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক। মন্ত্রক থেকে এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮২ একর জমি। এখানে বসান হচ্ছে অ্যাডভান্সড ওয়েপন সিস্টেম এবং এস ৪০০ –য়ের মতো মিসাইল ডিফেন্স শিল্ড। তেজপুর আর শুধুমাত্র আর এয়ারবেস নয়, এটি পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের একটা আকাশ ছাতা। ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপে চিন এবং বাংলাদেশ বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post