শাহি হুঙ্কার।
সেই হুঙ্কারে উত্তাল পদ্মা। সীমান্তের ওপারে থাকা শশ্রুগুম্ফহীন নেতাদের মেরুদণ্ড দিয়ে ঠান্ডা রক্তের স্রোত বইতে শুরু করেছে। ভয়ে পিঠঠান তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের। তাঁর গলাটা ভীষণরকম “অমায়িক”, চেহারা বেশ রাশভারী। পদ্মাপারে এমন একজন নেতা নেই, যে নেতার ওই গর্জনের বিরুদ্ধে পাল্টা গর্জন দিতে পারে। আর চেহারায় যা ভারিক্কি সেই চেহারার পাশে দাঁড়ানোর সাহস কারও নেই। এই হুঙ্কারের জন্য ভারত এতোদিন ধরে অপেক্ষা করেছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হঙ্কারটা দরকার ছিল। বাংলাদেশের উঠতি কয়েকজন নেতাদের বাড়াবাড়ি যে পর্যায়ে চলে গিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এই রকম একটা জলদগম্ভীর কণ্ঠে সাবধানবাণীর দরকার ছিল। আগামীদিনে চিকেন নেক নিয়ে ভারতকে হুমকি দেওয়ার আগে বাংলাদেশের ভারত-বিদ্বেষী নেতাদের বার কয়েক ভাবতে হবে। হুঙ্কারে তারা যদি থেমে যায় তো তাদের মঙ্গল না হলে। রাজনাথ সিংয়ের ভাষায় ঘুসকে মারেঙ্গে।
ভারতের জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যাদের ইস্তক পরিচয় আছে, তারা জানেন শাহি হুঙ্কার মানেই অমিত শাহের কথা বলা হয়। উচ্চগ্রামে কথা বলতে ভালোবাসেন। রাজনীতিতে যাদের শত্রু বলে তিনি মনে করেন, তাদের কড়াভাবে জবাব দেন। গত শনিবার অমিত শাহ গিয়েছিলেন শিলিগুড়ি। উত্তরঙ্গ এবং শিলিগুড়ির কৌশলগত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিকেন নেক প্রসঙ্গ টানেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কী বলেছেন, শোনা যাক –
“ইয়ে হামারা শিলিগুড়ি কা যো ক্ষেত্র হ্যায়, পুরা দেশ ইসকো বহুত প্যায়ার করতা হ্যায়। কিঁউ প্যায়ার করতা হ্যায়? বাংগাল কি ইয়ে ভূমি কো দেশ ওয়েসাহি প্যায়ার করতা হ্যায়। মাগার শিলিগুড়ি হামারা নর্থ-ইস্ট মে যানে কা রাস্তা হ্যায়। ইসলিয়ে প্যায়ার করতা হ্যায়। কুছদিন প্যাহলে কুছ লোগোনে দিল্লিমে নাড়ে লাগায়ে। চিকেন নেক কো হাম কাট দেঙ্গে। কিঁউ ভাই ? ক্যায়সে কাটো গে? ইয়ে কোই পিতাজি কা ভূমি হ্যায় কেয়া?ইয়ে ভারত কা ভূমি হ্যায়। কোয়ি ইসকো হাত নেহি লাগা পায়েগা”
বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, “এই শিলিগুড়ি করিডোরকে গোটা দেশ ভালোবাসে। বাংলার এই জমিকে গোটা দেশ ভালোবাসে। কিন্তু শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন মানুষ ভালোবাসে ? ভালোবাসে এই কারণে যে শিলিগুড়ি আমাদের উত্তর-পূর্বে যাওয়ার রাস্তা। কিছুদিন আগে দিল্লিতে কয়েকজন স্লোগান তুলেছিল। বলেছিল চিকেন নেক কেটে নেওয়া হবে। কেন ভাই ? আর কী করেই বা কাটবে?এটা কারও বাবার জমি না কি ?এটা ভারতের জমি। কেউ হাত লাগাতে পারবে না।”
পদ্মাপারে পালাবদলের পর সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছিল চিকেন নেককে আলাদা করে দেওয়ার হুমকি। বলেছিল, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের তারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে ভারতের চিকেন নেক কেটে নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেবে। একবার নয়, একাধিকবার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কিন্তু মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এবার তাঁকে মুখ খুলতে দেখা গেল। আর তাঁর মুখ খোলার অর্থ একটাই – সময় শেষ। আগামীদিনে এই নিয়ে যেন পদ্মার ওপার থেকে চিকেন নেক নিয়ে একটি হুমকি না শোনা যায়। শোনা গেলে কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিষয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবনতি হয়েছে। চিকেনস নেক –য়ে হামলা চালিয়ে ওই জায়গা দখলের আওয়াজ দিয়েছে বাংলাদেশ। চিকেনস নেকের দিকে নজর রয়েছে চিনেরও। এই এলাকা দখলের মধ্যে দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাংশের সেভেন সিস্টারকে আলাদা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এবার শিলিগুড়ি থেকে বড়ো বার্তা দিলেন অমিত শাহ। এটাকে বাংলাদেশের জন্য আল্টিমেটাম বলা যেতে পারে।












Discussion about this post