আাগমী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একই সঙ্গে সেদিন বহুল চর্চিত গণভোটও হবে। ওই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কি জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে, গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে কী হবে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। কারণ এটা ঠিক যে বাংলাদেশের অনেক ভোটারের কাছেই এখনও পর্যন্ত গণভোটের বিষয়বস্তু খুব একটা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-এর জয় পরাজয়ের সাথে জুলাই সনদের সম্পর্ক কতটুকু কিংবা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেই বা সনদের কতখানি বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়েও ভোটারদের মনে সংশয় আছে। যদিও ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এবং তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে গণভোটে হ্যাঁ-তে টিক দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে বসে আছেন। এখানেই উঠেছে এর উদ্দেশ্য এবং বিদেহ নিয়ে প্রশ্ন। বিষয়টি খুবই জটিল। আসলে গণভোটের ব্যালটে মূলত চারটি বিষয় রাখা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজের ভাষ্যে অনুযায়ী জুলাই সনদে অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও, গণভোট হবে কেবল সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৩০টি প্রস্তাব নিয়ে। আর সেই কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে জনসাধারণের মধ্যে। কারণ সেখানে চার বিষয়ের বাইরে অন্যগুলো ব্যালটে থাকছে না। সরকার পক্ষ বা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আগ বাড়িয়ে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিতে এত উগ্রীব প্রচারের জন্যই বিতর্ক দানা বাঁধে। পরে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়ে সরকারি প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ততদিনে প্রচারপর্ব অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু তাতেও কি গণভোট নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া পড়ছে, তাঁরা কি আগামী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খুব একটা উদগ্রীব? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে ভয়ানক তথ্য।
জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় যে যে রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, তাঁদের কাছে এটা এখন শাখের করাতের মতো হয়ে গিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এই বিষয়ে ইসলামপন্থী দলটি যথেষ্টই আশাবাদী। তাঁদের বক্তব্য, সাংবিধানিক সংস্কার না হলে বাকি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হওয়া বা না হওয়ায় খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু জামাত জোটের অন্যতম শরীক এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি এই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। ফলে তাঁদের দায়বদ্ধতা কম। অন্যদিকে বিএনপি যেহেতু জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় তারা স্বাক্ষর করেছে, তাই তা বাস্তবায়নে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁদের বক্তব্য, গণভোট হচ্ছে আইনের ভিত্তিতে। তাই আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে নৈতিক বাধ্যবাধকতার বিষয়কে সামনে আনছে তাঁরা। কিন্তু এর মধ্যে বাদ গিয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। তাঁদের এবারের নির্বাচন থেকেই দূরে রেখেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই আওয়ামী লীগের পক্ষে গত নির্বাচনের নীরিখে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট ছিল। তর্কের খাতিরে এখন যদি যা কমেও যায়, তাহলেও ৩৫ শতাংশের বেশি সমর্থক আওয়ামী লীগের দিকে রয়েছে। ফলে তাঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচন এবং গণভোট হলেও তা হবে অন্যাষ্য। যেখানে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী এই ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে বসে আছেন। সেখানে সন্দেহ রয়েছে কত শতাংশ ভোট পড়বে এবারের নির্বাচনে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সমীক্ষা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে গণভোট নিয়ে একটা মতামত নেওয়া হয়েছিল। যেমন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্র। যার মালিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, যাকে কয়েকমাস আগেই গ্রেফতার করেছিল ইউনূসের সরকার। সেই ইউটিউব চ্যানেলে একটি সমীক্ষা বা পোল হয়েছে এই সংক্রান্ত। তাতে মোট ভোট দিয়েছেন ৪৫ হাজারের বেশি দর্শক। এই কন্টেন্টে লাইক পড়েছে তিন হাজারের বেশি এবং কমেন্ট এসেছে প্রায় ৮০০। তবে পোল রিভিও ছিল বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এখানে প্রশ্ন ছিল, গণভোটে আপনার অবস্থান কী? কী হচ্ছে তা বুঝতে পারাটা খুব জরুরি, আপনি কোন পক্ষে? দেখা যাচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ, ‘না’ ভোটের পক্ষে ৩০ শতাংশ এবং ‘ভোটকেন্দ্রেই যাব না’-তে ভোট দিয়েছেন ৬০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ ঠিক কি ভাবছেন। যা ইউনূস সাহেবের পক্ষে খুব একটা শুভ লক্ষণ নয়।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post