রাজনীতিতে শূন্য বলে কিছু হয় না। শূন্যস্থান কোনও না কোনওভাবে পূরণ হয়ে থাকে। জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই নেই। ফলে, তারা না থাকায় একটা শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল ঠিক। অনেকে মনে করছে, ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হলেও সেই শূন্যস্থান শূন্যই রয়ে গিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন সেই শূন্যস্থান অনেকটাই পূরণ হয়েছে। পুরোপুরি না হওয়ার কারণ, আওয়ামী লীগ এখন জাতীয় রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। তাদের বাদ দিয়ে যে পদ্মাপারের কোনও রাজনীতি হতে পারে না বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের একটি বিখ্যাত দৈনিক ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন নতুন করে হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি উস্কে দিয়েছে। জনমনে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
এই পত্রিকাটি স্বাধীনতা দিবসে প্রাক্কালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে হাসিনা অভিযোগ করেছেন দেশি ও বিদেশি শক্তির মদত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শককে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসিনা বলেন, দেশ এক কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বহু বাধা পেরিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার পর এখন সকল অর্জনকে ক্ষুণ্ণ করার এক গোপন ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে লডা়ই করতে হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইদানিং বাংলাদেশে একটি নতুন ধারার রাজনীতি তৈরি হয়েছে। সেই রাজনীতি হল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বিনষ্ট করা। দেশভাগ কিম্বা পলাশীর যুদ্ধকে ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়ো করে দেখানের একটা চেষ্টা চলছে। এমনকী বাংলাদেশ তিনবার স্বাধীন হয়েছে বলেও কোনও কোনও পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে ইউনূসের শাসনকল নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ইউনূস তাঁর শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাস। দেশের যেখানে মুক্তিযুদ্ধের যত ভাস্কর্য ছিল, সব ভেঙে ফেলেন ইউনূসের শাগরেদরা। গত ৫৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে, সাড়ে তিন কোটি টাকার ঋণ। আর বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। দেশের অর্থনীতি তলানিতে চলে গিয়েছে। ২০২৪ –য়ের আন্দোলনে আপামর জনগণ অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও পরবর্তীকালে জানা যায় এটি ছিল আমেরিকার নকশা। আমেরিকা চেয়েছিল তাদের পছন্দের একটি সরকার ক্ষমতায় আসীন হোক। সেই নীল নকশার ফলশ্রুতি হিসেবেই ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হন। তবে বেশিদিন তারপক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।
শেখ হাসিনার শাসনকাল নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। হাসিনা নিজের মুখেও সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। নির্দিধায় জানিয়ে দেন, তাঁর আমলেও কিছু ভুলত্রুটি হয়েছিল। কিন্তু তদরকি সরকারের আমল একদিকে যেমন দুর্নীতি করে গিয়েছে, সমান্তরালভাবে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টাও চালিয়েছে। ফলে, ইউনূস সরকার বিদায় নেওয়ায় দেশবাসী অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে একটা প্রশ্ন নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে – হাসিনা কি তবে ফিরছেন? আওয়ামী লীগকে কি আবার আগের মতো সক্রিয় রাজনীতি করতে দেখা যাবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটা অনেকটাই তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে জামায়াত কিন্তু নতুন বিএনপি সরকারকে অস্বস্তিতে রাখার জন্য সব ছক তৈরি করে রেখেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বাকি বিরোধীরা। বিএনপি সরকারকে মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে কিন্তু আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করতে হবে। সুতরাং, আওয়মী লীগ জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে না পারলে, সব থেকে বেশি মুশকিলে পড়বেন তারেক রহমান।











Discussion about this post