হাসিনা দিল্লিতে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল। যদিও দলনেত্রী হাসিনা এবং তাঁর দলের কর্মীসমর্থকেরা মনে করেন ওই নিষেধাজ্ঞার কোনও বৈধতা নেই। তবে জাতীয় রাজনীতিতে দলের তেমন কোনও কর্মসূচি চোখে পড়ছে না। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। দেশের বাইরে যে সব নেতাকর্মী রয়েছেন, তাদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু দেশে ফিরলেই হবে না। দেশে ফিরে তাদের কী কাজ হবে, সেটাও তিনি তাঁদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রধান কাজ মাঠে নামা। সেই সঙ্গে দলের যে সব নেতা জেলে রয়েছেন, তাদের হয়ে আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়ে রেখেছেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লীগ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কিন্তু লড়তে গেলে দরকার একজন লড়ুকা নেতার। হাসিনা এখনও দিল্লিতে। যদিও তিনি আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু সেটা কবে, তা এখন কেউ জানেন না। দল একপ্রকার নেতৃত্বহীন। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। হাসিনা চাইছেন, দলের নেতাকর্মীরা চাইছেন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। কিন্তু লড়তে গেলে তো একজনকে তো নেতৃত্ব দিতে হবে।
এই অবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সুপ্রিমো হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি রদবদল ঘটাতে চলেছেন। বাতাসে ভাসা গুঞ্জন অনুযায়ী, এই পদে বসতে চলেছেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আগে দেখে নেওয়া যাক কে এই মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এই আওয়ামী লীগারের জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৬ জুন, চট্টগ্রামে। যে পরিবারের তিনি জন্মগ্রহণ করেন, সেই পরিবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পরিবার আওয়ামী লীগপন্থী। বাবা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪-য়ের ১১ মার্চ থেকে ২০১০-য়ের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। মা শাহিদা মহিউদ্দিন এক বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। তাঁকে বডো করে তোলেন সৎ মা হাসিনা মহিউদ্দিন। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পেশায় একজন আইনজীবী। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে আইন ও নৃবিদ্যা নিয়ে স্নাতক হন। ইউনিভার্সিটি অব ল থেকে স্নাতকোত্তর। পরে লিকনস ইনের ব্যারিস্টার হিসেবে নিযুক্ত হন। অত্যন্ত প্রাজ্ঞ এই নেতা। ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে আইন, ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স’ থেকে নৃবিদ্যা ও আইন, লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। এই বাংলার সঙ্গেও তাঁর নাড়ির যোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ মিশনেও পড়াশোনা করেন। আবার হাসিনা তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রথম কারণ তার পাণ্ডিত্য। দ্বিতীয়ত তিনি একটি আওয়ামী লীগ পরিবারে বেড়ে উঠেছে। বাংলায় যেমন তিনি সাবলীল, সমান সাবলীল ইংরেজিতেও। আন্তর্জাতিক মহলেও তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আলোচনা চলছে নসরুত হামিদ দীপুকে নিয়েও। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সরকারে থাকাকালীন তিনি যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সরকার পতন হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালান।
জুনাইদ আহমেদ পলককে নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। তাঁর ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের শক্তি দেখা যায়। তিনি নিজেকে প্রযুক্তি নির্ভর ও আধুনিক তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি নির্ভর হলেই হয়না। মাঠ পর্যায়ের রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া তিনি এখন জেলে। কবে জামিন পাবেন, তা কেউ জানে না। আলোচনা হচ্ছে মোহম্মদ এ আরাফতকে নিয়েও। তাঁর শক্তি মূলত বুদ্ধিভিত্তিক এবং মিডিয়াভিত্তিক। তাঁরও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। হাসিনা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন। মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে তিনি কতটা শক্তিশালী হতে পারবেন, সেটা স্পষ্ট নয়। দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বোঝার দিক থেকে বিপ্লব বড়ুয়ার মতো নেতারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দক্ষতার সঙ্গে তাঁর দফতর সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ভাল যোগাযোগ রয়েছে। দলের মেকানিজম নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু পরিচিতি শুধুমাত্র দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নাহিম রজ্জাকের ক্ষেত্রে পারিবারিক নৈতিক ঐতিহ্য একটি বড়ো বিষয়। তিনি নিজেকে এই প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। নাম শোনা যাচ্ছে শাহরিয়ার আলমের। তিনি একজন দক্ষ আমলা। কূটনৈতিকস্তরে তাঁর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। ভালো বৈশ্বিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে তৃণমূলস্তরে যোগাযোগ বেশ দূর্বল।












Discussion about this post