সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। একের পর এক সমস্যায় দেশটি জড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনী ফলাফলের ট্রেন্ড দেখে যখন বোঝা যাচ্ছিল যে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে, আর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন, তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ভাবী প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথ কোনওভাবেই মসৃণ হবে না। তাদের সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। তৈরি হয় জ্বালানি সংকট। সরকারের তরফে দেশবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও কোনও পরামর্শ কাজে আসেনি। একের পর এক পেট্রোলপাম্প শূন্য হতে শুরু করে। এখনও বাংলাদেশ সেই সঙ্কট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে হাম।
বাংলাদেশে বিগত এক মাসের হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক শিশুর। এক হাজারের বেশি শিশু এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। রাজধানী ঢাকা সহ কমবেশি সব শহরেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাম মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রীকে আক্রান্ত জেলা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার ১০ কোটি টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন চার শিশুর রবিবার মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে শুধু রাজধানীতেই ১২ শিশুর মৃত্যু হল।
সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, রাজশাহী ছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে হামের প্রাদুর্ভাব সব থেকে বেশি। জানা যাচ্ছে দুটি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক প্রয়োজনের তুলনায় হামের টিকার জোগান কম। যে সব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের অনেকের বাধ্যতামূলক দুটি টিকা নেওয়া ছিল না। গ্যাভির স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতিকে রীতিমতো উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার কথায় কত শিশুর হামের বাধ্যতামূলক দুটি টিকা নেয়নি, তার কোনও হিসেব সরকারের ঘরে নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, সরকার থেকে ৬০০ কোটি টাকা নতুন টিকা কেনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, গত আট বছর অতি সংক্রমক এই রোগটির টিনা না দেওয়ার কারণে এখন হামের প্রকোপ আবার দেখা দিয়েছে।
তবে তাঁর এই দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম। তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত আট বছরে দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ছয় বছর আগে ২০২০ সালেও হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেটা পরের বছরেও চালু ছিল। কর্মসূচির বাইরেও নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই বিষয়ে ওপেন সোর্স অনুসন্ধানের ফেসবুকেই ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে অসংখ্য পোস্ট খুঁজে পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম। সেগুলিতে সে সময় হাম ও রুবেলার ক্যাম্পেইনের আওতায় শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছিল। সেই সব কর্মসূচির ছবিও প্রকাশ করা হয়।
মহামারির প্রথম দিকের মাসগুলোতে টিকাদান সেবা ব্যহত হতে শুরু করলেও ২০২০ সালের জুনে বাংলাদেশ রুটিন পরিষেবা পুনরায় শুরু করে। ওই বছর ডিসেম্বর থেকে পরের বছর জানুয়ারি পর্যন্ত সফলভাবে হাম ও রুবেলার গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এর আওতায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি যে সত্য নয় সেটা জানিয়ে দিয়েছেন, তার দফতরের এক অ্ধিকর্তা। তিনি বলেন, টিকা ইপিআইয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং সব সময় দেওয়া হয়। সাধারণত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের দুটি টিকা দেওয়া হলেও এর অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি চারবছর পর পর হামের টিকা দেওয়ার যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়, ২০২৪ –য়ে তা নেওয়া হয়নি।











Discussion about this post