অনেকদিন ধরেই তিনি ফিরবে বলে জানিয়ে এসেছেন। শুধু ফেরা নয়, দলীয় কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশও দিয়েছেন। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল অংশ নিতে পারেনি। তাই, কর্মীদের মনোবল তলানিতে চলে গিয়েছে। তারা যাতে মানসিক দিক দিয়ে পুরোপুরি ভেঙে না পড়েন তার জন্য কোনও না কোনও সময়ে নেত্রীকে কিছু না কিছু বলতে শোনা গিয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর বিদেশে থাকলে দেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক যেমন ক্ষীণ হয়ে আসে, দলের শীর্ষনেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঝারি এবং তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। এভাবে বেশিদিন চলা যাবে না, সেটা বুঝতে পেরেছেন নেত্রী। তাই, এবার দেশে ফেরার জন্য পাকাপাকি মনস্থির করে ফেলেছেন। এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে তিনি ফিরবেন? তাঁকে কে ফেরাবে? হাসিনা নিজেও জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ পলায়নবৃত্তির রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ কোনওভাবেই পিছু হঠে না। এটা যে নিছক কথার কথা নয়, তাঁর প্রমাণ ইতিহাস। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে কম চেষ্টা হয়নি। কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ঠিক তাঁর উল্টো। যে বা যারা দলটিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে, তারা রাজনীতি থেকে মুছে গিয়েছে। মুছে গিয়েছেন সেই সব কুচক্রীরা।
রাজনীতি আর দাবার চাল যে হুবহু মিলে যেতে পারে, তার সাক্ষী রইল বিশ্ব। যে তথ্য শুনলে অনেকে বিস্মিত হবে যে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছে জামায়েত ইসলামি। এই তথ্য শুধু বিস্ফোরক নয়, এই তথ্য বিশ্বাস করা খুব মুশকিল। এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা বলা দরকার। রাজনীতিতে চিরকালের শত্রু বলে যেমন কিছু হয় না, চিরকালের মিত্র বলে হয় না। কখনও কখনও শত্রুর শত্রু আমার মিত্র ফর্মূলাও কাজ করে। এখানে ঠিক সেটাই হয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল। জামায়াত শাসকদলের রাজনৈতিক শত্রু। আবার আওয়ামী লীগেরও রাজনৈতিক শত্রু। তারা এখন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছে। এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করতে হয়। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হল, তিনি বলেন, দলটির ওপর যেমন নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। যদিও তারেক রহমান কিন্তু কোনও রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নন। তবে খেলা এবার ঘুরে গিয়েছে। যে দলটি আওয়ামী লীগকে কোনওভাবেই সহ্য করতে পারে না, সেই জামায়াত এখন হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পর্দার আড়ালে থেকে ঘুটি সাজাচ্ছে। সূত্রের খবর তৃতীয় একটি দেশের মধ্যস্থতায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভারতের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দাবা খেলার একটি বিশেষ চালের কথা উল্লেখ করতে হয়। রাজাকে বাঁচাতে অনেক সময় ঘুঁটি অদলবদল করতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড়ো কোনও শক্তির চাপ সামাল দিতে জামায়াত এই মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে গভীর রাতে শেখ হাসিনা ভারত থেকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। এটা কি শুধুই গুঞ্জন। না কি বাস্তবেই সেটা ঘটেছে। গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। নিশ্ছিদ্র পাহাড়ায় কয়েকটি কালো কাঁচ ঘেরা গাড়িতে করে শেখ হাসিনাকে তাঁর পৈতৃক ভিটায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয় তীব্র কৌতুহল এবং বিভ্রান্তি। প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে শুরু করে হাসিনা কি সত্যিই দেশে ফিরেছেন? না কি তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে রঙিন গল্প তৈরি করা হচ্ছে?










Discussion about this post