সেখানে না কি একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার জন্য দায়ী আবার তারেক রহমান? গল্প হলেও সত্যি। কারণ, তারেক তাঁর রান্নাঘরে নিয়ে এসেছেন এমন একজনকে, যার সঙ্গে উত্তরপাড়ার সম্পর্ক বিষবৎ। তিনি খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী। এই খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রাখাইনে একটি মানবিক করিডোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার সেটা পত্রপাঠ খারিজ করে দেন। তিক্ততা একটা সময় ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়। একটা সময় খলিলুরের উত্তরপাড়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেই খলিলুরকে তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন। এটা সেনাপ্রধান ওয়াকারের জন্য হুমকি বার্তা। অনেকটা বিষ দিয়ে বিষ মারা। বা লোহা দিয়ে লোহা কাটা।
সেনাপ্রধানের ওপর তারেকের অসন্তুষ্টির আরও কারণ রয়েছে। জিয়া যখন কার্যত মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত, সেই সময় তারেক দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উৎকণ্ঠার কথা জানান। সেই সময় জিয়া-পুত্র বলেছিলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”
তারেক কিন্তু সেই সময় দেশে ফিরতে পারেননি। বলা হচ্ছিল, সেই সময় তারেক দেশে ফিরলে ওয়াকার বিমানবন্দর থেকে সোজা জেলে নিয়ে রাখতেন। তাছাড়া জিয়া জীবীত অবস্থায় তো সেনাবাহিনীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারেক কোনওদিন রাজনীতিতে ফিরবেন না। জিয়া জীবীত নেই। আর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁর দল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতির পট পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তারেক রহমান তাঁর তিক্ত অতীত ভুলে গিয়েছেন, এটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। জিয়া পুত্রের স্মৃতি এখনও যে সেদিনের মতো টাটকা, সেটা বোঝা যাচ্ছে খলিলুরকে নিয়োগের মধ্য দিয়ে। তাঁকে নিয়োগ করলে সেনা এবং সেনা সর্বাধিনায়কের সঙ্গে যে একটা দূরত্ব তৈরি হবে, সেটা তারেক রহমান নিজেও জানেন। তিনি সজ্ঞানে সেই দূরত্ব তৈরি করতে চেয়ে খলিলুরকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেছেন।
আবার অনেকে বলছেন, সেনাপ্রধানের কানে তারেক রহমান এই বার্তা পৌঁছে দিতে চান যে তিনি জেনেবুঝেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেছেন। তারেক রহমান বলতে চেয়েছে, সেনা প্রধান ওয়াকার তাঁকে মাসের পর মাস ঘুরিয়েছেন। দীর্ঘদিন তারেক রহমান উত্তরপাড়া থেকে বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে সবুজ সংকেত পাননি। বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি মাসের পর মাস গড়িমসি করেছেন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছেন। এমনকী বিএনপি যাতে কোনওভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, তার জন্য ঘুঁটিও সাজিয়েছিলেন। তার জন্য তিনি জামাতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে খেলার জন্য মাঠ তৈরি করে দিয়েছেন। তাই এখন সময় হয়েছে ওয়াকারকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার। এখন সেনাবাহিনী কোনওভাবে তারেককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে দেশে আগুন জ্বলবে। আর সেই আগুন নেভানোর সাধ্যি কারও নেই। তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান দেখা করে এসেছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে তিন চার মাসের মধ্যে একটা নির্বাচন হবে বলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন। নিশ্চিত ছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর নির্বাচন হল প্রায় দেড় বছর বাদে। এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য দায়ী সেনাবাহিনী এবং বাহিনীর সর্বময় কর্তা। কারণ, ওয়াকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়। অথচ হিসেব অনুযায়ী ক্ষমতায় আসীন হওয়ার কথা ছিল বিএনপির। তারা যদিও ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। তবে হাসিনা সরকারের পতনের বহুমাস বাদে। এত কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তারেক ভুলে যাবেন কি করে? এখন তো ঘড়ি উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে.।












Discussion about this post