একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সেই দলে পচন ধরে। দলের নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে যান। আর তার জন্য দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়। আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় ছিল কয়েকদশক। দলের অনেকেই কোনও কোনও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। অনেকে নেতা বিদেশে চলে গিয়েছেন। এই সব নেতারা আওয়ামী লীগের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা এই সব বোঝা আর বয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন না। দলে যারা মীরজাফর রয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার একটা ঝলক কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই দেখা গেল। আর সেটা হাসিনা করতে চলেছে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, হাসিনা এটা বুঝতে পেরেছেন, বদলে যাওয়া বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারালে দলটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে। এই অবস্থায় তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে চাইছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদলের মাধ্যমে সেই পর্বের সূচনা করলেন হাসিনা।
অনেকে বলছেন, জুলাই অগাষ্টের অভ্যুত্থানের পিছনে একটা ডিপ স্টেট ছিল না। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা তাদের সহায়তা না দিলে আমেরিকার একার পক্ষে একটা সরকার উল্টে দেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব হত না। সূত্রের খবর, দলনেত্রী হাসিনা এখন সেই সব মীরজাফরদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা এই সব মীরজাফরদের খুঁজে বের করে চরম শাস্তি দেবেন। কারণ এরা শুধু দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদেরকে দলে রেখে দিলে একদিন দলটাই অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। অনেকে আশাপ্রকাশ করেছিলেন যে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দুর্বৃত্তায়ন করেছে, আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে হাসিনাকে বিচ্যুত করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তৃণমূলকে বিচ্ছিন্ন করেছেন, আওয়ামী লীগকে তার মূল নীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, মনোনয়ন নিয়ে দলের যারা বাণিজ্য করেছেন, তাদের আর হাসিনা ছেড়ে দেবেন না। গত ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এরা মধু খেয়েছেন। আর দলের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বিএনপি, জামায়াতের মতো দলের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করেছেন। দলের মধ্যে এরা একটা সমান্তরাল নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা চালায়। হাসিনা এবার সেই মৌচাক ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদলের মধ্যে দিয়ে সেই কাজ তিনি শুরু করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহলের একাংশ।
বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের তরফে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা শীর্ষ নেতৃত্বে বডো ধরনের রদবদল আনতে চলেছেন। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের একটা প্রবল ঝাঁকুনির দরকার ছিল। দলনেত্রী নানা কারণে নিজের ব্যস্ত থাকায় তিনি সেই ঝাঁকুনি দিতে পারেননি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হাসিনাকে সেই রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হলে দলটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, হাসিনা যদি দলের পরিকাঠামো গত পরিবর্তন আনেন, নতুন পরিকাঠামো জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে তো।
বাংলাদেশে এখন ক্ষমতায় রয়েছে বিএনপি। তারা আওয়ামী লীগের প্রতি কতটা সদয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে এসেছে। তারাও চাইবে না আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসুক। সেনাবাহিনী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। কিন্তু দেশবাসী বুঝে গিয়েছে বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে একমাত্র আওয়ামী লীগ। দেশবাসীর কথা কানে দেবেন কি তারেক?












Discussion about this post