দলটা আওয়ামী লীগ। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে দলটা বছরের পর বছর জড়িয়ে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দলটিকে বাদ দিয়ে কোনওভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতি সম্ভব নয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পিছনে আওয়ামী লীগের একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রচারমঞ্চে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতাকে দেখা গিয়েছিল। তারেকের দলের তরফ থেকে আওয়ামী লীগারদের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছিল। তারা যে এই বিপুল পরিমাণে ভোট পেয়েছে, তার একটা বড় কারণ আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বিরাট অংশ বিএনপির ভোটবাক্সে পড়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন সেই প্রশ্নটা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে – আওয়ামী লীগ কবে ফিরবে? যদি ফেরে কীভাবে তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে? হাসিনাই বা দেশে ফিরবেন কবে? তারেক রহমান কি তাঁকে এবং তাঁর দলকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোনও ব্যবস্থা করবে?
আওয়ামী লীগ ফিরবে না এতো হতে পারে না। তারা ফিরবে, তবে ভিন্নরূপে। এই ব্যাপারে বড়ো ভূমিকা নিতে চলেছেন খলিলুর রহমান। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে খলিলুর রহমান পূর্বতন তদারকি সরকারেও ছিলেন। তারেক রহমান সরকারেও তাঁকে রাখা হয়েছে। বিএনপি সররকারের তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে খলিলুর রহমান আসলে ডিপস্টেটের প্রতিনিধিত্ব করছে। জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ডিপ স্টেট এবং খলিলুরের মধ্যে একটি গোপন রফা হয়েছে বলে অনেকে মনে করছে। তাই, হাসিনার দলের প্রত্যাবর্তন হবে শুদ্ধি করণের মধ্যে দিয়ে।
বলা হচ্ছে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা ভারতের। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আওয়ামী লীগের একটি অংশকে পূনর্বাসন দেওয়া। এর ফলে, তারা জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে। ভবিষ্যতের নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। লীগ সুপ্রিমো চাইছে তাঁর দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নিতে না পারলে, দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরম আকার নিয়েছে। নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি।
বাংলাদেশের রাজনীতি দুইভাগে বিভক্ত। এক আওয়ামী লীগ ও দুই আওয়ামী বিরোধী। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় ছিল। ২৪-য়ের গণআন্দোলনের জেরে তাদের সরে যেতে হয়েছে। ক্ষমতায় আসীন হন মুহাম্মদ ইউনূস। মানুষ তাঁর সরকারের থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছিল। ইউনূস সরকার তাদের কোনো আশা পূর্ণ করতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে তারা আওয়ামী লীগের ওপর ওই সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার কোনও মূল্য নেই। আর বিএনপি যদি সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে তাহলেও আওয়ামী লীগের কিছু যাবে আসবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের মনের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। হাসিনা সরকারের সব কিছু যে ঠিক ঠাক ছিল, তা নয়। তবুও এত কিছুর পরেও হাসিনার শাসনমলে বাংলাদেশের সার্বিকভাবে উন্নত হয়েছে।
কোনও কোনও বিশ্লেষকদের মতে, ডিপস্টেটের সঙ্গে এই খলিলুরের রীতিমতো যোগাযোগ রয়েছে। হাসিনাকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ডিপস্টেটের থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরে যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে। অপরদিকে হাসিনা চাইছেন দলে যে সব মির্জাফর রয়েছে, তাদের ছাঁটাই করে দিতে। একদিকে খলিলুর অপর দিতে হাসিনার দলে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই পদ্মাপারে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।











Discussion about this post