তদারকি সরকারের উপদেষ্টারা কি সেফ এক্সিটের নীল নকশা তৈরি করছেন? মুখে তাঁরা বলছেন অন্যকথা। কিন্তু সূত্রের খবর তারা পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত। এই প্রসঙ্গে সাময়িক সময়ের জন্য একটু পিছনে হাঁটতে হবে।
সেটা ২০০৭ সাল। বাংলাদেশ উত্তাল। দেশের প্রধান দুই দলের নেত্রী বেগম খালিদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে কারাবন্দী করেন ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকার। নেতারা কারাগারে। আর ক্ষমতার রাশ বাহিনীর হাতে। সেই প্রথম বাংলাদেশে গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই দুইয়ের তখন মাখো মাখো সম্পর্ক। তবে তাঁদের সেই মধুর সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নানা ঘটনার পর ২০০৮-য়ের ডিসেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তারা বিদায় নেয় ওয়ান ইলেভেনের সরকার। ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে উধাও হন দুই দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী নেতা। তারা আর দেশে ফেরেননি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সব চেয়ে আলোচিত দুই নেতা রয়েছেন আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেটের বেথেসডায় নিজের বাড়িতে সস্ত্রীক রয়েছেন ফখরুদ্দীন আহমেদ। আর প্রাক্তন সেনাপ্রধান মঈন উদ্দীন আহমেদ থাকেন ফ্লোরিডার পামবিচে। তারা জন্ম দেন সেফ এক্সিট নামে একটি শব্দের।
এই দুইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপনের কারণ, তদারকি সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেই সেফ এক্সিটের পরিকল্পনা করছেন। সেই শব্দ আরও একবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। গত বছর হাসিনা সরকারকে সরিয়ে বাহিনীর সাহায্যে ক্ষমতার রিমোট হাতে নেন ইউনূস। একাংশ বাংলাদেশবাসী আশা করেছিলে, তাঁর শাসনামলে দেশের পরিস্থিতি আগের থেকে আরও উন্নত হবে। এমনকী আন্তর্জাতিকমহলেরও তেমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কারও কোনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তদারকি সরকার। তাই, এখন তারা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন।
সেটা প্রথম ফাঁস করেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রধান নাহিদ ইসলাম। কিন্তু কারা সেফ এক্সিট চাইছেন বা পরিকল্পনা করেছেন, সে বিষয়ে নাহিদ বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন, সময় হলে তিনি তাদের নাম ফাঁস করবেন। যাঁদের কাঁধে ছিল অভ্যুত্থানের দায়, তারা এখন কাঁধ থেকে দায়ে ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছন, এর পিছনে তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচন। দ্বিতীয় কারণ, বিএনপি-জামাত এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে গোপন লিয়াঁজো। বাতাসে খবরটা দীর্ঘদিন ধরেই ভেসে বেড়াচ্ছে। এই ক্ষেত্রে সেই ফর্মূলা এই তিন দল কাজে লাগাচ্ছেন। শত্রুর শত্রু আমার মিত্র। ইউনূস আওয়ামী লীগের কাছে প্রথম থেকেই শত্রু ছিলেন। এবার বিএনপি এবং জামাতের কাছেও তিনি শত্রু হয়ে উঠেছেন। সেটা ইউনূস বেশ ভালোই টের পেয়েছেন। অভিযোগ, ইউনূস সরকারের অনেকেই এই তিন দলের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মহম্মদ ইউনূস। আর তখন থেকেই সন্দেহ আরও তীব্র হয়। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে বৈঠক করে তিন দেশের তিন কূটনীতিক। সব থেকে যেটা বেশি নজর কাড়ছে তা হল নাহিদ বা সার্জিসের বক্তব্য বা দাবি যে ভুল, সেটা কিন্তু কোনও উপদেষ্টার গলায় শোনা যায়নি। তাহলে কী তাঁরা এই তরুণ তুর্কি নেতাদের বক্তব্যে ঘুরিয়ে সিলমোহর দিলেন। কথাতেই তো আছে নীরবতা সম্মতির প্রাথমিক লক্ষ্মণ। প্রশ্ন হল, উপদেষ্টাদের অনেকে সেফ এক্সিট নিলেও এই তরুণ তুর্কি নেতাদের কী হবে। আপাতত সময়ের ওপর ছেড়ে দিতেই হচ্ছে।












Discussion about this post