বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মানুষটি বরাবরই চর্চার শিরোনামে থাকেন। কৌশলে হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য সুকৌশলী ভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আশ্রয়ের ফেরানোর ক্ষেত্রে আবার কখনো কখনো ইউনুসের বিরুদ্ধে চরম গর্জন দিয়ে। খাদ্য রসিক জেনারেল ওয়াকার বরাবরই ক্ষমতার দাঁড়িপাল্লা মেপেই এগোতে পছন্দ করেন। এরই মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ উত্তপ্ত সম্পর্কের মাঝেই বাংলাদেশের সেনার পক্ষ থেকে ভারতের কাছে নরম মনোভাব পোষণ করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জানিয়ে দিলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পরিকল্পনা বা শত্রুতামূলক অবস্থান নেবে না বাংলাদেশ। তাঁর কথায় খুব স্পষ্টবার্তা-ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মসৃণ ও স্থিতিশীল। তবে কি ইউনূসের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার? বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির দিকে তাকালে বোঝাই যায় যমুনা এবং ক্যান্টনমেন্টের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা একমাত্র ইউনুস এবং সেনাপ্রধানের বিস্তর মতপার্থক্যের জন্যই।কিন্তু এরই মধ্যে আরও একটি খবরে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নও দানা বাঁধছে-পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জে এফ-১৭ কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। তবে কি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস ভারতের বিরুদ্ধে ভিন্ন মনোভাব নিয়ে চলছে, এমনই সব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অর্থাৎ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার ভারতের বিরুদ্ধে নরম মনোভাব প্রশন করতেই বরাবর পছন্দ করেন।জানুয়ারিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধানদের বৈঠকের পর থেকেই সামরিক সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই বৈঠকের পর জে এফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা জোরালো হয়। সম্প্রতি খোদ পাকিস্তানি সেনার তরফেও এই আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।জে এফ-১৭ যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি-এই দুই কারণেই বহু উন্নয়নশীল দেশের কাছে বিমানটি আকর্ষণীয়। বাংলাদেশের বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই বহরের আধুনিকীকরণের কথা ভাবছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই জে এফ-১৭ একটি বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে বলে সামরিক সূত্রের দাবি।তবে এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা কি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ?
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে সেই আশঙ্কা নস্যাৎ করে দিলা বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি-এটি ঢাকার কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা। ভারত, চিন, পাকিস্তান-তিন দেশের সঙ্গেই কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল এই বিষয়টির উপর সতর্ক নজর রাখলেও প্রকাশ্যে উদ্বেগ দেখাতে চাইছে না।সব মিলিয়ে, মুখে আশ্বাস আর বাস্তবে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ-এই দুই সমান্তরাল পথে হাঁটছে ঢাকা। জে এফ-১৭ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post