‘হাইলি সাসপিসাস’।
এটা কে বলেছিলেন, কোথায় বলেছিলেন, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। কিন্ত বাংলাদেশের দু’জনের মার্কিন সফরের প্রেক্ষিতে কথাটা আরও একবার বলতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, পদ্মাপারে সত্যিই কি পালাবদল হয়েছে? পালাবদল বলতে শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল বোঝায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হল দেশটি কি পুরোপুরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছে? না কি আমেরিকা উঠতে বললে তারা উঠবে, বসতে বললে বসবে। আমেরিকা যে কেউ যেতে পারেন। একজন সাধারণ মানুষ যেমন যেতে পারেন, সরকারে আসীন কোনও পদস্থকর্তাও সে দেশে যেতে পারেন। কিন্তু সেই পদস্থকর্তা যদি মার্কিন কোনও উচ্চপদস্থ আমলার বা ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন তখন কিন্তু সফর গুরুত্ব পেয়ে যায়।
বর্তমানে আমেরিকায় জুবেইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্টলেডির আমন্ত্রণে তিনি সে দেশে গিয়েছেন। বিএনপির সরকার গঠন এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথম তারেকজায়া আমেরিকা গেলেন। তাও আবার মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে। হঠাৎ কী এমন হল যার জন্য ট্রাম্পজায়া জুবেইদাকে আমন্ত্রণ করলেন। তিনি যে যাবেন সে ব্যাপারে সরকারের তরফে কোনও কিছু বলা হল না। ফলে, সফর ঘিরে একটা নয় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটা এখন talk of the South East Asia। জুবেইদার সফরকে এনেকে প্রক্সি সফর হিসেবে দেখছেন। এবার আসা যাক বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের প্রসঙ্গে। তিনিও আমেরিকা গিয়েছেন। বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের সফরকে সরকারি সফর বলা হচ্ছে। তাঁর এই সফরের খবর দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর। আইএসপিআর জানিয়েছে, সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরের সময় তিনি জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের আয়োজনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদত্ত সম্মাননা গ্রহণ করবেন এবং সিনেট চেম্বারে অনুষ্ঠিত বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। সেনাবাহিনী প্রধান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জিশুমিয়া এবং আকসা নামে দুটি সামরিক চুক্তি সইয়ের জন্য বাংলাদেশকে লাগাতার চাপ দিয়ে আসছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে বাংলাদেশে তাদের সামরিক ঘাঁটি তৈরির বিষয়টি দীর্ঘায়িত হবে। যাকে বাইপাস করতে পারে এই দুটি চুক্তি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। কারণ, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনাদের ঢাকা ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের অ্যাক্সেস প্রয়োজন। আকশা চুক্তির মাধ্যমে বিমানবন্দর ব্যবহারের পাশাপাশি রিফুয়েলিংয়ের সুযোগ পাবে মার্কিন বিমানবাহিনী। কক্সবাজারে অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে আমেরিকার আর কোনও বাধা থাকবে না।
আসলে আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। পাকিস্তান সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে তাদের লাভ হবে না। যতটা লাভবান হবে বাংলাদেশে সেনাঘাঁটি তৈরি করলে। আমেরিকা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসিনার শাসনামলে আমেরিকা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিল। হাসিনাকে তারা রাজি করাতে পারেনি। তারেক রহমানকে দিয়ে কাজটা অনেক সহজ হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে তারেক জিয়া যে দেশে ফিরতে পেরেছন, সেটা আমেরিকার বদান্যতায়। তার প্রতিদান হিসেবে তাঁকেও তো আমেরিকাকে কিছু দিতে হবে। সে প্রতিদানের একটা ক্ষেত্র আমেরিকা তৈরি করতে চাইছে। জুবেইদা এবং ওয়াকারের আমেরিকা সফর সেই ক্ষেত্র তৈরির অঙ্গ।











Discussion about this post