বাংলাদেশে এখন টক অব দ্য টাউন সেনাবাহিনীর কর্মরত এবং প্রাক্তন কর্মকর্তাদের গ্রেফতারি। ভোট কবে, ইউনূস পদত্যাগ করছেন কি না, এসব কিছু এখন পিছনের বেঞ্চ চলে গিয়েছে। এই গ্রেফতারি নিয়ে বাহিনী দ্বিধাবিভক্ত। একপক্ষ ওয়াকারে পাশে, একপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে। তবে যারাই ওয়াকারের পাশে থাকুক না কেন, তাঁরা তাদের প্রিয় জেনারেলের জন্য নিজেরা তৈরি করেছেন নিরাপত্তা বলয়। তারপরেও কিন্তু বলেত হয় ওয়াকার একেবারেই স্বস্তিতে নেই। তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি মঙ্গলবার বলেন, কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। প্রশ্ন করা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার পর সেনাবাহিনী কি তাদের গ্রেফতার করতে পারে? তিনি পরিষ্কার না বলে দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে ঢাকা সেনানিবাসের ভিতরে একটি ভবনকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তাজমুল বলেন, সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সেটা কার্যকর করবে। কাউকে গ্রেফতার করে সরাসরি জেলে নিয়ে যাওয়া বা জেলে পাঠানোর কোনও সংস্থান নেই। আসামীকে গ্রেফতার করে প্রথমে আদালতে আনতে হবে। এবার আদালত আসামীকে যেখানে রাখার নির্দেশ দেবে, আসামীকে সেখানে নিয়ে যেতে হবে। সকলেই আইনের চোখে সমান।
সে তো ঠিক কথা। প্রশ্ন উঠছে, এই যে বাহিনীর এতজন সদস্যকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হল, কলকাঠি কে নেড়েছেন? এককথায় ইউনূস। কেন, সেই যুক্তি তুলে ধরা যাক। সাম্প্রতিক অতীতে বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে তাঁর নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়। সূত্রের খবর, সেনাপ্রধান ওয়াকার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ইউনূসের কাছে রিপোর্টিং করতে বাধ্য নন। রিপোর্টিং করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছে। তাতে আঁতে ঘা লাগে তদারকি সরকার প্রধানের। তিনি চেয়েছিলেন এর একটা প্রতিশোধ নিতে। এটা বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে সেনাবাহিনীকে নিয়ে এত কাণ্ড ঘটছে। অথচ তদারকি সরকার প্রধান হওয়ার পরেও তিনি এই ঘটনা নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেনি। যা কিছু বলছে বাহিনী কোনও না কোনও কর্তা। প্রশ্ন উঠতে পারে, বাহিনীর বিষয়ে তো বাহিনীই বলবে। তদারকি সরকার প্রধানের এই বিষয়ে বলার কোনও এক্তিয়ার নেই। কিন্তু তাঁর তো এক্স হ্যান্ডেলে তো তিনি কিছু বলতেই পারতেন। তাঁর সর্বশেষ যে সাক্ষাৎকারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেখানে তিনি সব কিছুর জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। যদিও তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। ভারত যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে উলটে বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে। একথা ভুতেও বিশ্বাস করবে না যে বাহিনীতে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ মহম্মদ ইউনূস কিছুই জানেন না, এটা হতে পারে না। এই কলকাঠি নাড়ার পিছনে আরও একটা কারণ রয়েছে। সেটা হল যে কোনও উপায়ে ভোট বাতিল করা। তাহলে তিনি আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে যা যা তাঁর গুছিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও গুছিয়ে উঠতে পারেননি, ওই সময়ের মধ্যে তিনি বাকিটা গুছিয়ে নেবেন।
প্রশ্ন উঠছে, একজন বাদে বাকি ১৫ জন এখন কোথায় আছেন? মো. হাকিমু্জ্জামান জবাবে বলেন, ১৬ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post