যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট বা আইআরআই একটি সমীক্ষা চালিয়েছে বাংলাদেশের ভোটার মধ্যে। তাতেই উঠে আসলো চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। যেমন গোটা বাংলাদেশের মিডিয়ায় যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে তা হল ৬৯ শতাংশ মানুষ প্রধান উপদেষ্টার কাজে সন্তুষ্ট। আর ৭০ শতাংশ মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে সন্তুষ্ট। আবার ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে এখনই নির্বাচন হলে বিএনপিকে সমর্থন করবে ৩৩ শতাংশ মানুষ, জামায়তে ইসলামীর দিকে সমর্থন করবেন ২৯ শতাংশ আর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপিকে সমর্থন দিচ্ছেন মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ।
অর্থাৎ, মাত্র ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী, যা গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দলের সর্বোচ্চ প্রকাশ্য জনসমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরদিকে এনসিপি এত কাঠখড় পুড়িয়েও তাঁদের জনভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু এই সমীক্ষা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এক রাজনৈতিক দল যাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম এই মুহূর্তে নিষিদ্ধ সেই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি ঘুরিয়ে সমর্থন দিয়েছেন। যা বাংলাদেশের কোনও খবরের কাগজ বা মিডিয়া হাউস প্রকাশ করতে পারছে না। তবে একটু মাথা খাটিয়ে বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি, জামাত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপির বাইরে জাতীয় পার্টিকেও রাখা হয়েছিল সমীক্ষায়। তাঁদের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন ৪ শতাংশ ভোটার, অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিচ্ছেন ৩ শতাংশ, আমি ভোট দেব না বলছেন ২ শতাংশ ভোটার। আবার জানি না বলেছেন ৭ শতাংশ আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ১১ শতাংশ মানুষ। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ আছেন যারা ওই বড় তিন-চারটি রাজনৈতিক দলের বাইরেও সমর্থন প্রকাশ করেছেন আবার ১৮ শতাংশ মানুষ এদের নিজেদের মত দিতে অস্বীকার করেছেন। এটা মুলত আওয়ামী লীগের প্রতিই সমর্থন হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। ওই সমীক্ষায় আওয়ামী লীগের কোনো উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা না গেলেও ২৮ শতাংশ মানুষ কিছুটা সমর্থন দিয়েছেন বলেই দাবি। তাহলে বিষয়টা কোথায় দাঁড়ালো? বিএনপি ৩৩ শতাংশ, জামাত ২৯ শতাংশ আর আওয়ামী লীগ ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে।
এই কঠিন সময়েও আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি বাংলাদেশের জনসমর্থন যে বাড়ছে তা কিন্তু দিন দিন প্রকাশ্যে আসছে। এমনিতেই বিগত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের ডাকে নানা কর্মসূচিতে ভিড় হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। এত ধড়পাকর, অত্যাচার, গ্রেফতারির ভয় এড়িয়েও সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের কারণে জামায়াতের এই উত্থান সম্ভব হয়েছে। খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ২০২৪ সালের অগাস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরেই ক্ষমতায় আসার তোড়জোড় শুরু করেছিল। তাঁরা ধরেই নিয়েছিল ৬ মাসের মধ্যে ভোট হবে এবং তাঁরাই একক সংখ্যাগড়িষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গড়বে।
কেউ কেউ আবার মন্ত্রীত্ব নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ও জামায়তে ইসলামীর চালে এখন তাঁরা কার্যত পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছে। সেখানে হু হু করে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করছে জামায়তে ইসলামী। এই সমীক্ষায় তাঁরা বিএনপির থেকে মাত্র ৪ শতাংশে পিছিয়ে থাকলেও আগামীদিনে সেটা ছাপিয়ে যাবে। আর এই কারণেই তারেক রহমানকে দেশে না ফেরার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উঠেপড়ে লেগেছে জামাত শিবির। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে খুব একটা পিছিয়ে তা কিন্তু নয়। গত বছর যে দলটি যেখানে ঠান্ডা ঘরে ঢুকে গিয়েছিল, আজ তাঁরাই প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের সমর্থন আদায় করে নিয়েছে। সামনে আরও হাসিনা ম্যাজিক আসছে, তখন কি হবে বিএনপির?












Discussion about this post