বাংলাদেশে গুম খুনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওয়ারেন্টভুক্ত অনেক সেনা কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনও বয়ান বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তদারকি সরকার এই বিষয়ে চুপ। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন সন্ত্রাস দমন শাখার প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ, কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছেন মেজর নোমান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে রামপুরায় গণহত্যায় লিপ্ত থাকার। বহু আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবর রহমানও দেশে নেই বলে খবর। তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর। গত বছর ৫ অগাস্টের কিছুদিন পর তিনি ময়মন সিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছান। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ডিজিএফআইয়ের প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) আকবরও দেশে নেই। তিনিও নাকি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ডিজিএফআইয়ের পাঁচ পরিচালকের সবাই দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
অথচ বাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, কেউ পালিয়ে যায়নি। অসমর্থিত সূত্রে খবর, তাদের সেফ এক্সিটের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার স্বয়ং। এরা পালিয়ে যাওয়া খবরের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল, এরা দিল্লির হাতে তুলে দেবেন অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য। যেটা পেলে সাউথব্লকের ঘুটি সাজানোর কাজটি আরও সহজ হবে। কেন সেনাপ্রধান বাহিনীর এই সব সদস্যদের সেফ এক্সিটের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর তাদের পালিয়ে যাওয়ার সময়টিও বেশ নজর করার মতো।
বাহিনীর প্রাক্তন এবং বর্তমান কর্মকর্তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে নানা মত উঠে আসতে শুরু করে। সেই সব মতের মধ্যে রয়েছে এদের বিচার কোন আইনে হবে? সামরিক আইন না সাধারণ ফৌজদারি আইনে? বিচার হলে কোথায় হবে? সেনা আদালতে না কি ফৌজদারি আদালতে ? অন্য একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশ থেকে পালিয়েছেন ১০জন। সেটা জুলাইতেই। কারা পালিয়েছেন, তাদের একটা নামের তালিকা তারা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকা অনুসারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর, মেজর জেনারেল মহম্মদ সইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল সইফুল আবেদিন, মেজর জেনারেল সৈফুল আলম, মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ চৌধুরী, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, কর্নেল মাহাদি হাসান। এমনকী যে দুই অফিসার ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন, সেই দুই অফিসারও গায়েবে। এরা হলেন মহম্মদ জিয়াউর রহমান এবং মহম্মদ ইমরুল কায়েস। তালিকায় থাকা প্রথম সাতজন ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ডিজিসিআইয়ের প্রধান ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, কী করে এরা পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ঠিক। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, এদের দেশ ছাড়তে সাহায্য করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার।
এই প্রসঙ্গে নূর খান লিন্টন জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশপথেও তারা পালিয়ে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এদের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন সরকার বা প্রশাসন সজাগ থাকলে হয়তো এরা পালিয়ে যেতে পারতেন না।












Discussion about this post