মানবতাবিরোধী অপরাধ, মুলত গুম-খুনের অভিযোগে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ১৪ জন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসের একটি বিশেষ কারাগারে স্থানান্তরিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই ১৪ জন কর্মরত সেনা আধিকারিকের পাশাপাশি আরও ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার বিরুদ্ধেও জারি হয়েছে একই গ্রেফতারি পরোয়ানা। অবাক করা বিষয় হল, ওই একই মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। কিন্তু তাঁদেরকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবলমাত্র ১৪ জন সামরিক অফিসাররাই। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছিল, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যে সেনাবাহিনীর কর্মরত আধিকারিকদের হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু এরপর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁদের আদালতে হাজির করানো হয়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, ওই সেনাকর্তাদের কি আদৌ গ্রেফতার করা হয়েছে?
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা যদি সত্যিই গ্রেফতার থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো অত্যন্ত জরুরি। আর যদি এটা না করানো হয়, তাহলে তা আইনবহির্ভূত ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হেবিয়াস করপাস রিটের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার অধিকারী হন। যদিও এ ক্ষেত্রে গুম, খুন, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তারা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশ অবশ্য দাবি করছেন, তাঁদের হাতে কোনও ওয়ারেন্ট এসে পৌঁছয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দেখেই আমরা ওই আধিকারিকদের সেনা সদরে রিপোর্ট করতে বলেছিলাম।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ সেনার ওই মেজর জেনারেল বলেই দিয়েছিলেন, তাঁরা কর্মরত সেনাকর্তাদের গ্রেফতার নয় বরং সংযুক্ত করেছেন বা নিজেদের হেফাজতে রেখেছেন। এরপর ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেসের একটি ভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে ওই ২৪ কর্মকর্তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি ওই সেনাকর্তাদের ভিজিটিং সিনিয়র অফিসার্স’ কোয়ার্টারস ভবনে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এমনকি ওই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কোনও ধরণের অঘটন এড়ানোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
কিন্তু এত কিছুর পরও একটা বিষয়ই এখন সামনে আসছে, সেটা হল, ১৯৫২ সালের সেনা আইন অনুযায়ী, সেনা সদস্যদের গ্রেফতার ও আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই আইনের অধ্যায় ৮-এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী, কোনও সেনা সদস্যকে তদন্ত ছাড়া ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখা যাবে না, যদি না জনস্বার্থে তা অপরিহার্য মনে হয়। অন্যদিকে ৮ অক্টোবরের আইসিটির আদেশে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে, যা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ধারা ৩(২) ও ৪(১)-৪(৩)-এর আওতায় পড়ে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আলাদা বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্তটিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। সবমিলিয়ে বিষয়টি বেশ ঘোরালো। এখন দেখার আগামী ২২ অক্টোবর কি হয়।












Discussion about this post