দিল্লির আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি খবর তৈরি হয়। খবরটি হল, সাউথব্লক তাঁর জন্য আর গাঁটের কড়ি খরচ করতে চাইছে না। একজনের জন্য এভাবে মাসের পর মাস তাঁর থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করা যায় না। ঢের হয়েছে, এবার যে দেশ থেকে এসেছিল, সেই দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা পুরোটাই গুজব। আর সেই গুজব খবর বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এই খবরকে গুজব বলার কয়েকটি কারণ রয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লি এসেছিলেন সে দেশের কূটনৈতিক সংবাদদাতারা। বৈঠক করেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে। বিদেশ সচিবকে তাঁরা প্রশ্ন করেন – শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সাউথব্লক কী ভাবছে? বাংলাদেশ এবং এ দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম সেই খবর প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, বিদেশ সচিব তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন যে সাউথব্লক হাসিনাকে ফিরিয়ে দেবে। এই খবরও ঠিক নয়। বিদেশ সচিব কোনও নেতা নন। তাই, তাঁকে জবাব দিতে হয় আমলার মতো করে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনা করছে। ‘চিন্তা-ভাবনা’ – এই শব্দবন্ধনীর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে হাসিনার প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর।
এদিকে আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গত ৮ অক্টোবর একই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি পুরোপুরি একটি আইনি প্রক্রিয়া। আমরা সেই আইনি পথ অনুসরণ করছি। আদালতের নির্দেশ মেনে হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। ভারত তাদের মতো করে এগোতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের তরফে আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। ’ এদিকে আবার হাসিনা দেশে ফেরার জন্য শর্ত আরোপ করেছেন। সেই শর্ত হল – বাংলাদেশে এমন কোনও সরকার থাকাকালীন তিনি ফিরবেন না যে সরকারে আওয়ামী লীগ নেই বা আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে নেই।
প্রশ্ন উঠছে, সাউথব্লক কি সাততাড়াতাড়ি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেবে? না, বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমান যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতির নিরিখে এটা নির্দিধায় বলা যায় বঙ্গবন্ধুকে কন্যাকে তারা তল্পিতল্পা সমেত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে না। কারণ, সে দেশে মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়া এই দুই শক্তিকে যাঁরা পরাজিত করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাসিনা। সাউথব্লকও এই দুই অপশক্তির বিরুদ্ধে। তাই, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশে হাসিনাকে ফিরিয়ে সাউথব্লক তার মান সম্মান কেন খোয়াতে যাবে? অস্থির বাংলাদেশে সে দেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে এই বার্তাই চলে যাবে যে এই দুই অপশক্তিকে সমর্থন করে সাউথ ব্লক। তাছাড়া হাসিনা দিল্লিতে আছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। তাকে সেখানে তুলে একদল হায়নার মুখের সামনে ফেলে দেওয়া কখনই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আর হাসিনার দেওয়া শর্ত আরও আন্তর্জাতিকমহলকে এই বার্তাই দিল যে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হবে। তাঁর এই বক্তব্য সেই সবর খবর এবং গুজবকে খর্ব করে দিল যেখানে বলা হয়েছে হাসিনার জন্য দিল্লি আর এভাবে টাকা খরচ করতে চাইছে না। তারা এবার তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে চাইছে ।












Discussion about this post