বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ফেব্রুয়ারি। এই নিয়ে তদারকি সরকারের তরফ থেকে একাধিকবার বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের একটি খবরে তদারকি সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল যে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট হবে। পাশাপাশি এটাও শোনা যাচ্ছে যে একটি চক্র বাংলাদেশের ভোট বানচাল করতে তলে তলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্য তাদের তরফ থেকে যা যা পদক্ষেপ করার, তারা সেটা করবে।
এই টানটান উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করল বাংলাদেশের ভোট নিয়ে দ্বিতীয় জনমত সমীক্ষা। সেই সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশের আসন্ন ভোটে ‘খেলা হবে’। খেলা হবে ভোটকাটাকুটির। তাতে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। বিবিসি এর আগে বাংলাদেশের ভোট নিয়ে একটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করে। সেই সমীক্ষায় তারা দেখিয়েছিল আওয়ামী লীগ ১৭০টি আসন পেতে চলেছে। এবার তারা তাদের দ্বিতীয় জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করল। সমীক্ষা করা হয়েছে বাংলাদেশের পাঁচ কোটি ভোটারের ওপর। দ্বিতীয় রিপোর্ট বলছে, হাসিনার দল আওয়ামী লীগের আসন বাড়তে চলেছে। ৩০০টি আসনের মধ্যে তারা পেতে চলেছে ২১০টি আসন। কেন আচমকা তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে গেল? তার আগে একটি কথা জানিয়ে রাখা ভাল, ভোট নিয়ে জনমত সমীক্ষার ফল সব সময় মিলে যাবে এমনটা নয়। বহু ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ রয়েছে যে জনমত সমীক্ষা এক রিপোর্ট দিয়েছে। আর ভোটের ফল হয়েছে ঠিক উলটো। তবে ইংরেজিতে একটি কথা চালু আছে – একসেপসন প্রুভস দ্য রুল।
প্রশ্ন হল কেন আওয়ামী লীগের আসন বাড়বে। এর মূল কারণ, বিএনপি-এনসিপি-জামায়াতকে নিয়ে মহাগঠবন্ধন তৈরি না হওয়া। এই তিনটি দলের মধ্যে আসন বন্টন নিয়ে গোল বেধেছে। এনসিপি এবং জামায়াত যে কটি আসন দাবি করছে, বিএনপি নেতৃত্ব তাদের দাবি মেনে আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। হাওয়া যে দিকে বইছে, তাতে আগামীদিনে এই তিনদলের জোট হবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশের আকাশে ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। ফলে হাসিনার প্রত্যাবর্তন আরও নিশ্চিত হয়ে গেল। জোট হলে আওয়ামী লীগের ভোট কিছুটা হলেও কমত। তাদের পরেই দ্বিতীয়স্থানে থাকবে বিএনপি। তবে জোট না হওয়ার তারা কিন্তু বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিএনপিকে কোণঠাসা করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। জামায়াত চাইছে, তাদের শক্তি পরীক্ষা করতে। একই ইচ্ছা এনসিপির। জামায়াত যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তি হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলেছে সে দেশের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তাদের ফলাফল। তুলনামূলকভাবে বিএনপি পুরনো দল হওয়ার পরেও তাদের ফলাফল খুব একটা নজর কা়ড়ার মতো নয়।
তবে বিএনপি-এনসিপি-জামায়াতের জোট হলে রংপুর, কুমিল্লা, নবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং চট্টগ্রামে তারা আওয়ামী লীগের ভোট অনেকটাই থাবা বসাতে সক্ষম হত। কিন্তু জোট না হওয়ায় আখের লাভ হল আওয়ামী লীগের। তারা এই সব জায়গা থেকে ডিভিডেন্ড পাবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সব এলাকায় ওই তিন দলের যে ভোটার রয়েছে, তারা বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে। চিন্তায় রয়েছেন তারেক রহমানও। এই তিন দলকে ৩০০ আসনের জন্য প্রার্থী বাছাই করতে হবে। কাজটা বেশ কঠিন। কঠিন তারেকের পক্ষেও।












Discussion about this post