গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে একটা কথা শোনা যাচ্ছে। একটা চাপা উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছিল। কেউ জোর দিয়ে কিছু বলতে না পারলেও ফিসফিসানি ছিল পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে কেন্দ্র করে। তিনি এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন। প্রধানউপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কেউ বলছে, তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। কেউ বলছেন তিনি নিজের কাজে ফিরে যাবেন। কেউ বলছেন তিনি রাষ্ট্রপতি হবে। আসল সত্যি অন্যকিছু।
শুরুটা ছিল একটি গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন থেকে একটা অংশ বেশ সরবভাবে প্রচার শুরু করে প্রফেসর ইউনূস ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি আর দেশে থাকবেন না। তাদের কথা ছিল, ক্ষমতা ছাড়ার পরে পরেই তিনি দেশ ত্যাগ করবেন। এই কথাটা কে বা কারা ছড়িয়ে দেয়, সেটা বলা খুব কঠিন। তবে গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল। ইউনূসকে এমন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা যে তিনি দেশের জন্য কিছুই করেননি। শুধু ক্ষমতার স্বাদ নিয়ে সুযোগ বুঝে বিদেশে চলে যাবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট ঘোরাফেরা করছিল। কেউ কেউ তো জোরের সঙ্গে দাবি করেন যে প্রফেসর ইউনূসের বিদেশে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছে। পুরো বিষয়টা এমনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল যে মানুষ বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে তিনি সত্যি সত্যি বিদেশে চলে যাবেন। এরপর ঘটল এমন একটি ঘটনা, যা দেখে বাংলাদেশবাসী কার্যত হতভম্ব হয়ে যায়। সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর ইউনূস বলেছিনে, এই দেশে আমার জন্ম, এই দেশে আমার মৃত্যু। একটা বাক্য দিয়ে তিনি সব গুজবের মুখে তালা লাগিয়ে দেন। তিনি বলেন, তিনি তাঁর বাসভবনেই থাকবেন। অন্যত্র যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। বাংলাদেশে স্বস্তির নিশ্বাস পরে ঠিকই। তবে অন্য একটা প্রশ্নের জন্ম দেয়। প্রশ্নটা হল তাঁর দায়িত্ব শেষ। তিনি বলেছেন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কোনও অভিপ্রায় তার নেই। আর এই জায়গাতেই গল্প জটিল হয়ে যায়। শোনা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে বসার জন্য তাঁকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সূত্রের খবর তেমনই।
এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আলোচনায় থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অন্যান্য সিনিয়র নেতার মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে দলের নীতিনির্ধারকেরা। অবশ্য নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিপূর্বে এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি সরে যেতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন।












Discussion about this post