শব্দটা খুবই ছোট। কিন্তু তার অভিঘাত ভয়াবহ।
শব্দটি হল চাঁদাবাজি। আর এই একটি শব্দ নিয়ে তোলপাড় পদ্মাপারের রাজনীতি। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত সহ বিএনপি এনসিপি নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সরব হয়েছে। বিশেষ করে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এই চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি শুধু রাজনৈতিক ব্যানারে হয় না। চাঁদাবাজির নানা কৌশল থাকে। প্রতিটি কৌশলের মধ্যে ফারাক রয়েছে। বলা হচ্ছে চাঁদাবাজির ঘটনা সব থেকে বেশি ঘটেছে পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকার প্রথম দিন থেকেই এই ব্যাপারে সোচ্চার। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দলের কোনও নেতা বা মন্ত্রী বা সাংসদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কোনও মন্ত্রী এই দুর্নীতিত দমন করতে হটলাইন চালু করেছে। বলা হয়েছে, কোনও প্রান্তে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম, কাদের থেকে কত টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে, সেটা যেন দ্রুত হটলাইনে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেন, যে জনতা তাদের ক্ষমতায় ফিরিয়েছে বেশ কিছু আশা নিয়ে। তার মধ্যে সর্বাধিক তারা গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তারেক বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সহ একাধিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারে নীতি হবে শূন্য সহনশীলতা বা জিরো টলারেন্স। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছেন তাঁর সাংসদরা। বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে ফেনী – ৩ কেন্দ্রকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন। তিনি একটি হটলাইন চালু করেছেন। নম্বরটি হল – ০১৭৩০০০৪৮৪৪। গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে এই হটলাইন নম্বর চালু হওয়ার বিষয়টি জানান। মিন্টু লিখেছেন, “ ফেনী ৩ এলাকাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও যে কোনও ধরনের অনিয়মুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, নির্ভয়ে তথ্য দিন। আপনাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে। ”
তারেক রহমানের জলসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ সারা দেশে সড়কে চাঁদাবাজির কোনও সুযোগ নেই। আর লক্ষ্মীপুরে তো নেই। ” শুক্রবার লক্ষ্মীর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন। বিএনপির যুগ্মসচিব অ্যানি বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রমজান মাসে যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন আমরা কীভাবে অব্যাহত রাখব, সে ব্যাপারে যে কোনও অবস্থান থেকে যে কোনও দফতরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ” চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে তিনি কঠোর হাতে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজি শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নির্মূল করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ধর্মমন্ত্রী বলেন, “দলীয় পরিচয়ে কেউ কোনও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন চলবে সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী। ” একই বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় বলেছেন, মন্ত্রী, এমপি, দলের কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা করা হবে। ” সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ তথা নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, নির্বাচনের আগেই কথা দিয়েছিলাম, বিজয়ী হতে পারলে ঢাকা – ৯ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদামুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। এখন সময় হয়েছে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার। অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।












Discussion about this post