বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে ‘গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া’। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে সেটাই করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এখন সুবোধ বালকের মতন ক্রিকেট ময়দানে একাকী দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
ভারতকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভুয়ো খবর প্রকাশিত হয় পাকিস্তানে। সেই পাক সংবাদমাধ্যমের ভুয়ো খবরকেই মই হিসেবে ব্যবহার করে গাছে উঠেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে সেই মই কেড়ে নিয়ে পালিয়েছে পাকিস্তান। আর এখন গাছের ওপর বসে মুখ লুকিয়ে কান্নাকাটি করছে সুবোধ বালকের ন্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এর আগে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাশে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড রয়েছে।এর জন্যে নাকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আপাতত স্থগিত করেছে সলমন আঘার দল। শুধু তাই নয়, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় সেজন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। তবে এবার এই আজগুবি নিউজের খবর, এমন কোনও ভাবনা নেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। অর্থাৎ, পাকিস্তান নিজে ঠিকই বিশ্বকাপ খেলবে। জল্পনা-কল্পনার ওপর ভর করে নাকি ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে, তা নিয়েই এবার সরাসরি জবাব দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।এর আগে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছে, তাদের ম্যাচগুলি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না। তাদের গ্রুপও অন্য কোনও দলের সঙ্গে অদলবদল করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে ২১ জানুয়ারির মধ্যে নিজেদের অবস্থান চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। বাংলাদেশ যদি ততদিন পর্যন্ত ভারতে না আসার বিষয়ে অটল থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে আইসিসি। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিসিআই। এই সিদ্ধান্তে চরম অপমানিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এর জেরে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছিল, টি২০ বিশ্বকাপে যেন বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে না যায়। সেই পরিস্থিতিতে ভারত খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আইসিসিকে চিঠিও লেখে বাংলাদেশ। বিসিবি এখনও দাবি করে যাচ্ছে, সরকারি ভাবে ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে তাদের দাবি এখনও নাকচ করেনি আইসিসি। উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে চলেছে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ। ৮ মার্চ টুর্মামেন্টের ফাইনাল। টুর্নামেন্টে গ্রুপ সি- আছে বাংলাদেশ। তাদের গ্রুপ পরবের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, একটি মুম্বইতে। বিশ্বকাপ শুরুর দিনই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা বাংলাদেশের। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইডেনেই ম্যাচ খেলার কথা বাংলাদেশের। আর নেপালের বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইতে খেলার কথা বাংলাদেশের। এবারই পরিষ্কার হয়ে গেল বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তান কিভাবে খেলার রঙ্গমঞ্চ তৈরি করে। আর সেই নাটকের রঙ্গমঞ্চে উঠে কিভাবে নাচতে থাকে বাংলাদেশ ও তথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এখন দেখার বিষয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তার কি অবস্থান জানায়।












Discussion about this post