বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে ভারত সহ চিনও। আর এবার ইউনূসের এই মন্তব্যের রেশ বেইজিং ও নয়া দিল্লি ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে ব্যাংককের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেও। চারিদিকে এই চাপে আরো বিপর্যস্ত মোহাম্মদ ইউনুস ও তার সরকার।
ভারত বা ভারতের কোনও অংশই যে ‘স্থলবেষ্টিত’ অঞ্চল নয় বলে দাবি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। বিমসটেকের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘতম উপকূল রেখা ভারতেরই রয়েছে আর সেই দীর্ঘতম উপকূল রেখা প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরেও উত্তর-পূর্ব ভারতের পথ প্রশস্ত হতে চলেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের এই মন্তব্য যে অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যের পাল্টা জবাব তা বলাই বাহুল্য ।
পররাষ্ট্র জয়শঙ্করের এক বিবৃতিতে, ” ভারত পাঁচটি বিমস্টেক সদস্যের সাথে শুধু সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশিরভাগ কে সংযুক্ত করে, এবং ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি বড় অংশ প্রদান করে ভারত। “
ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে যিনি নাকি সুসম্পর্ক চান তিনি কীভাবে এই মন্তব্য করলেন। চীন সফরে গিয়ে কিভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এহেন মন্তব্য করার উদ্দেশ্যই বা কি সেই প্রশ্নই মাথা চারা দিচ্ছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স ‘ল্যান্ডলকড’ বা স্থলবেষ্টিত একটি অঞ্চল এবং ওই অঞ্চলে ‘সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক’ বাংলাদেশ – চীন যেটাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রসারের কথা ভাবতে পারে।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ইউনূস যে কারণেই ওই মন্তব্য করে থাকুন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা যে তার একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মন্তব্য তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
Discussion about this post