এই মুহূর্তে সবথেকে আলোচনার বিষয় ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে। কারণ বাংলাদেশের অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে গিয়েছেন। আর চীন সফরের যাওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আবেদন করেছিলেন ভারতের কাছে। কিন্তু ভারত তা গ্রাহ্য করেনি। ফলে এটা পরিষ্কার, বাংলাদেশের ইউনূস সরকারকে মানতে নারাজ ভারত। এর আগেও দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছে। কিন্তু সেই ভাবে সরকারি বৈঠক দেখা যায়নি দুই দেশের মধ্যে। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে!
প্রথমেই আসি, ইউনূসের চীন সফর নিয়ে। মনে করা হচ্ছে, ইউনূসকে দিয়ে ভারতের স্বার্থ বিরোধী মৌ স্বাক্ষর করাবে চীন। এছাড়াও তিস্তা মহাপ্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে নাকি ইউনূস চীনে গিয়েছেন। কিন্তু চীনের মতো একটি চতুর দেশ কখনই একটি দেশের অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে না। যে প্রকল্প আবার দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন হয়নি। কাজেই ঋণ নেওয়া ছাড়া তেমন কোনও কাজ মিটবে না বাংলাদেশের। এটাই মনে করা হচ্ছে। চীনের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, মায়ানমার এর মতো না হয়!
তবে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন চক্রান্ত করলে, তাতে ভারতও উল্টো চাপ দেবে বাংলাদেশকে। এমনিতেই দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে পৌঁছেছে। কখনও দেখা গিয়েছে, ঢাকা থেকে ভারতের সেভেন সিস্টারস দখল করার হুমকি, কখনও কলকাতা দখলের হুমকি। যদিও তাতে ভারতের মাথা ব্যথা নেই। কারণ সময়ে অসময়ে দেখা গিয়েছে, মহম্মদ ইউনূসের সুর নরম ভারতের প্রতি।
কাজেই কখনোই চায় না, বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। এমনকি সেদেশের পরিস্থিতি খারাপ হোক সেটাও চায় না ভারত। কারণ, হাসিনা সরকারের পতনের সময় বা তার পরে বাণিজ্যিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বহু ব্যবসায়ী। মুখ থুবড়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। এমনকি বাংলাদেশে বহু ক্ষেত্রে ভারতের প্রচুর বিনিয়োগ আছে।
তবে ভারত চুপ থাকবে না যদি চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে খারাপ পরিস্থিতিতে ফেলে বাংলাদেশ। কারণ এখন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের আশ্রয়ে। ভারত সরকার চাইলেই, হাসিনাকে যে কোনও মুহূর্তে পদ্মাপাড়ে প্রত্যপন করাতে পারে। আর সেটা হলে আবারও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে বাংলাদেশে। কারণ একদিকে ছাত্রনেতাদের সমর্থিত মানুষ, অন্যদিকে সেনাপ্রধানের সমর্থিত মানুষ অন্যদিকে জামাত বা জঙ্গি সংগঠনগুলি। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো তো রয়েছেই। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ শান্তিতে থাকা বা না থাকা সবটাই নির্ভর করছে ভারতের উপর। এখন দেখার, শেষমেশ চীন থেকে কি নিয়ে আসেন ইউনূস।












Discussion about this post