ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কি আক্ষরিক অর্থেই কোনও পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তদারকি সরকারের আমলে বাংলাদেশ যেমন ছিল, তারেক রহমান সরকারের সময় বাংলাদেশ সেই জায়গাতেই আছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ভূয়ো মামলা রুজু করে তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা। জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে রায়, ফাঁসির আদেশ সব কিছু ভুয়ো। তার বড়ো প্রমাণ কেরানিগঞ্জের ঘটনা। জীবিত একজনকে মৃত দেখিয়ে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। ঘটনা ঘটেছে এক জায়গায়। আর পুলিশের দায়ের করা অভিযোগে ঘটনাস্থলই বদলে দেওয়া হয়েছে। মামলার তথাকথিত নিহত ব্যক্তি আদালতে হাজির হয়ে বয়ান দিয়েছেন। আর তাঁকে আদালতে জ্যান্ত দেখতে পেয়ে সবাই কার্যত বিস্মিত। বিচারের নামে যে প্রহসন হয়েছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। এইরকম ঘটনা একাধিকবার হয়েছে।
তথ্য বলছে, ১৯৮টি বিচারের মামলার মধ্যে ৭৮টির নিষ্পত্তি হয়েছে। যে সব মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, সেই সব মামলার মধ্যে ৫৬ শতাংশ মামলার ক্ষেত্রে কোনও প্রমাণ পেশ আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। আবার যে সব মামলায় আসামীর নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, সেই সব মামলার আসামীরাও ভূয়ো। এই আসামীরা কোথাকার বাসিন্দা, সেটা শুনলে আরও অবাক হতে হবে। এইসব আসামীরা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়গঞ্জ, বরিশালের। এরা কোনওকালেও রাজধানী ঢাকায় পা রাখেননি। সেটা তদন্তে প্রমাণিত। এই তথ্যগুলি প্রমাণ করে একটি সুসংহত চক্র সুপরিকল্পিতভাবে এই সব মামলা রুজু করে। কিন্তু মামলা ভুয়ো হলেও তারা কিন্তু জেলের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাদের মধ্যে অনেকে আবার আওয়ামী লীগের নেতা। কারও কারও বিরুদ্ধে আদালত আবার ফাঁসির রায় দিয়ে দিয়েছে। রাজধানী মিরপুর ইসিবি চত্বরে হামলার অভিযোগে এক লপ্তে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। না বাদিদের খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, না সাক্ষীদের। এই ঘটনা প্রমাণ করছে কিছু স্বার্থাণ্বেষিমহল একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের নিরাপদে রাখতে চেয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই। আওয়ামী লীগারদের যে কোনও উপায়ে হেনস্তা করা।
অথচ এই সব মামলায় গত দেড় বছরের বেশ সময় ধরে আটক রয়েছে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষকসহ বহু কর্মী। একজন সাধারণ পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা নয়, একসঙ্গে সাতটি মামলা। ঘটনায় দুটি আলাদা থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় যিনি আহত হয়েছেন বা যার মৃত্যু হয়েছে, তার পরিবারের থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা দায়ের করেছে অন্য কেউ। বিচারের নামে যে প্রহসন হয়েছে, সেটা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না।
সব থেকে বড়ো প্রহসন তো আইন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে। এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের বিচারের জন্য। তদারকি সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে এটাকে তাদের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়ো মামলা দায়ের করে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। হাসিনা ও তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এই আদালত। হাসিনা রায় শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি এই আদালতকে ক্যাঙারু আদালত বলে মন্তব্য করেন। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর আদালতের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেন। এমনকী সরকারের শীর্ষমহল থেকে বলা হয়ে আওয়ামী লীগের যে সব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, রায় ঘোষণা হয়েছে, সেই সব মামলা ও রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এখানেই আসল খেলা। সেই খেলাটি হল হাসিনার প্রত্যাবর্তন । সেই সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বিবৃতির উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দলের শাখাসংগঠনগুলি তো নিষিদ্ধ নয়। অর্থাৎ, তারা রাজনীতি করতেই পারে। আর হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলর রায় বাতিল হলে তিনি দেশে ফিরবেন।











Discussion about this post