‘যদি ঘাড়ে এসে পড়ে থাবা,/ কী হবে তা জানি বাবা/, হারা যাবে তাজা দুটি প্রাণ তো হায় হায়’।
উল্লেখ করার দরকার নেই কোন বিখ্যাত ছবির, ততোধিক বিখ্যাত এই গান। বাংলাদেশে যা চলছে তার প্রেক্ষিতে এই গানের থেকে আর কোনও গান সেরা হতে পারে না। সেনাপ্রধান ওয়াকার ভেবেছিলেন এক, আর হল অন্যকিছু। সেটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে তিনি তাঁর সৌদি আরব সফর বাতিল করে দিয়েছেন। তার থেকেও আরও ভয়ংকর হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ঢাকা যাচ্ছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্চেন মেজর জেনারেল কুন্দন কুমার সিং। হাসিনা-উত্তর পরিস্থিতিতে এই প্রথম ভারতের বাহিনীর তরফ থেকে এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলকে সে দেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সফর নিয়ে বাংলাদেশ সেনা বা ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অফিস থেকে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, প্রতিনিধিদল বৈঠক করবে বাংলাদেশের আর্মড ফোর্স ডিভিশন (এএফডি), ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজ্যান্স (ডিজিএফআই), বাংলাদেশে বায়ুসেনা, স্থলসেনার পদস্থকর্তাদের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘এটা কোনও রুটিন বৈঠক নয়। কোনও দেশের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার পদস্থকর্তাদের অন্য একটি দেশ সফর করার উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ’ কিছুদিন আগে তদারকি সরকারের বিদেশ বিষয়ক দফতরের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতকে মাথা ঘামাতে হবে না। ভারত ভাবছে, মাথা, নাক দুটোই গলাচ্ছে। তবে কূটনৈতিকভাবে। এবার পা রাখছে এবং সেটা সশরীরে। প্রমাণ ভারতীয় বাহিনী গোয়েন্দা শাখার পদস্থকর্তাদের ঢাকা সফর।
বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল সেটা জানা গেল সফর বাতিল হওয়ার পরে। কেন সৌদি আরব যাওয়ার জন্য তাঁর বেগ পেল? আসলে সে দেশ থেকে মার্কিন সেনার ক্যান্টনমেন্ট ফিরে যাওয়ার কথা। জেনারেল ওয়াকার চেয়েছিলে সেই শূন্যস্থানে তাঁর বাহিনীকে নিয়োগ করতে। সেটা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা জরিপ করতেই ওয়াকার সৌদি আরব যেতে চেয়েছিলেন। কপালে ঘি খাওয়া লেখা না থাকলে আর যেটা খেতে হয়, সেটাই এখন তিনি খাচ্ছেন। বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত এতজন সদস্য গ্রেফতারের ঘটনায় বাহিনীতে ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ হতে পারে অনুমান করে ওয়াকারের আর দুঃসাহস হয়নি সৌদি আরব যাওয়ার।
কিন্তু যে খবরে তাঁর ব্লাডপ্রেসার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, তা হল ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন পদস্থকর্তার বাংলাদেশ সফর। টালমাটাল ঢাকার ঢাকা উড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এই সফর নিঃসন্দেহে বাড়তি মাত্রা বহন করে। গত ১৫ মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ আসেনি। তারা বৈঠক কক্সবাজারে। এর আগে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল মার্কিন রণতরী। পাকিস্তান সেনার তরফ থেকেও এক প্রতিনিধিদলকে সে দেশে পাঠানো হয়েছিল। এবার আসছে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল।
তাদের সফরের সময়টা বেশ নজর করার মতো। আগামী বছর সে দেশে নির্বাচন। অপরদিকে, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সাউথব্লক আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এমন একটা সময় ভারতীয় সেনার চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা যাচ্ছে। এটা বললে বাড়াবাড়ি হবে না যে তারা ঘুরতে যাচ্ছে না। ধরে নেওয়া যেতে পারে, তারা যাচ্ছে বাংলাদেশের জল মাপতে।












Discussion about this post