সম্প্রতি ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের একটি দল বাংলাদেশ গিয়েছিল। তাদের কাছে খবর ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো জঙ্গি শিবির গজিয়ে উঠেছে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি তার অকাট্য প্রমাণ। সেই প্রমাণ এবং বেশ কিছু নথি নিয়ে তারা বাংলাদেশ যায়। বৈঠক করে সে দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে। তাঁর হাতে তুলে দেয় সেই সব নথিপত্র এবং ছবি। বাহিনীর তরফ থেকে জেনারেল ওয়াকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে ওই সব জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভারত পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। প্রতিনিধিদলের সফর ছিল তিন দিনের। কিন্তু সফরের মেয়াদ তারা আরও একদিন বাড়িয়ে দেয়। যেদিন তারা দিল্লি আসে, ঠিক সেদিন সেনাপ্রধান ওয়াকার চলে যান ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে। অনেকে বলছে, সাউথ ব্লকের তরফ থেকে উত্তরপাড়ার কর্তার হাতে যে তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে, সে সব তথ্যের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই সীমান্তে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। সেই চাঞ্চল্যকর খবরের রেশ মিটতে না মিটতে এবার এল আরও ভয়ঙ্কর খবর।
মুম্বই নরমেধ যজ্ঞের মাথা হাফিজ সইদের সহযোগী তথা তার ডান হাত ইফতিসাম ইলাহি জাহির সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে সেই রিপোর্ট পৌঁছে গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ইফতিসাম ইলাহি জাহির হাফিজ সঈদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গত ২৪ বছর ধরে হাফিজের সঙ্গে সে রয়েছে। গত মাসের ২৫ তারিখ ইফতিসাম ঢাকার শাহ মকদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান আবদুর রহিম বিন আব্দুর রাজ্জাক। সে আবার আল জামিয়া আল সাফিয়া নামে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্য। ঢাকা পৌঁছে সে সেখানকার ইসলামি মৌলবাদী সংগঠনের মাথাদের সঙ্গে দেখা করে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতে প্রথম সারির একধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজশাহীদে আগামী ৬ থেকে ৭ নভেম্বর ইসলামী সংগঠনের একটি সম্মেলন রয়েছে। সেই সম্মেলনে হাফিজের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে ইফতিসাম ইলাহি।
সূত্রের খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেশ কিছু মসজিদ রয়েছে। ইলাহি জাহির ওই সব মসজিদ পরিদর্শন করে। দেয় ভারত-বিরোধী বক্তব্য। ভাষণে কী বলেছে এই জঙ্গি? বলেছে, ‘আত্মবলিদানের জন্য আপনারা তৈরি হন। এই আত্মবলিদান ইসলামের জন্য। দরকার হলে আপনারা ইসলামের স্বার্থে আপনাদের সন্তানকেও জন্য উৎসর্গ করুন। যারা মুক্তমনায়, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। আর তার জন্য আপনাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে।’
ইলাহি জাহিরের দেওয়া উস্কানিমূলক বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া সীমান্ত অঞ্চলে এই কট্টরপন্থী ইসলামি নেতার দেওয়া ভাষণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই – ভারতে যে কোনও মূল্যে একটা অস্থির পরিবেশ তৈরি করা। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে পাকা রিপোর্ট ছিল যে এ দেশে একটা অস্থির পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে ছক তৈরি করছে আইএসআই। ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে তারা একটি দফতর খুলে বসেছে। সেখান থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজন ছিল এমন একটা দেশ যে দেশে বসে তারা এই সব কুকীর্তি করতে পারবে। তাই, তারা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে।












Discussion about this post