ডিপ স্টেট। এটা একটি শক্তি। যে শক্তিকে দেখা যায় না, ধরা যায় না, অনুভব করা যায় না। কিন্তু তাঁর ক্ষমতা এতটাই যে একটি দেশের সরকারকে বদলে ফেলতে পারে। বাংলাদেশে পালাবদলের পিছনে যে আমেরিকার হাত ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ক্ষমতা থেকে সরে যাওযার পর হাসিনা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। প্রথম দিকের তাঁর সাক্ষাৎকারের বিষয় ছিল বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীকালে তাঁর সাক্ষাৎকারে তিনি ডিপ স্টেটের চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করেন। হাসিনা কাটা কাটা কথায় বলেন, আমেরিকার দাবি মেনে তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তুলে দিলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হত না। কিন্তু দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব তিনি বিসর্জন দিতে রাজি ছিলেন না। তার জন্য ক্ষমতা থেকে সরে যেতেও তাঁর আপত্তি নেই। যদিও বিরোধীপক্ষ তাঁর সেই বক্তব্যকে আমল দিতে রাজি ছিল না। শেখ হাসিনার পক্ষের লোকজন মনে করে এটা ছিল ডিপ স্টেট মেটিকুলাস ডিজাইনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছে। ২৪-য়ের জুলাই অগাস্টের আন্দোলন ছিল মূলত কোটা সংস্কারকে ঘিরে। পরবর্তীকালে সেই আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত করা হয়।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ইউনূস জমানায় এই ডিপ স্টেট নিয়ে আলোচনা হয়নি। তখনই রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নিশ্চিত হয়ে যান যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে ভীষণরকম সক্রিয় ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে আমেরিকার কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ তাঁর এই বিবৃতির কিছুদিন আগে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে বলা হয়, আমেরিকা আর রেজিম চেঞ্জের পক্ষে নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট অধ্যাপক জেফরি ম্যাক্স সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের ইমরান খান সরকার ও বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের পতনের নীল নকশা তৈরি হয়েছে আমেরিকায়। নকশার বাস্তবায়নও হয় সেখানে বসে। ডিপ স্টেট আসলে একটি ছায়া সরকার।
এতোদিন যারা ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিতেন, সেই নাহিদ – আসিফরা এখন এই ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব মেনে নিচ্ছেন। সম্প্রতি আসিফ মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁকে এই ডিপ স্টেট নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়। তিনি নির্দিধায় জানিয়ে দেন, এই ডিপ স্টেট বাংলাদেশে নির্বাচন চায়নি। এই ডিপ স্টেট চেয়েছেল অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তাহলে তাদের লাভ হবে। এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয়। জামায়াত আর এনসিপি কিন্তু নির্বাচনের পক্ষে ছিল না। তারা চেয়েছিল নির্বাচন যত দেরিতে হয়, ততই তাদের লাভ। প্রশ্ন এখানেই তবে কি জামায়াত আর এনসিপি গোপনে ডিপ স্টেটের সঙ্গে সেই সময় যোগাযোগ রেখেছিল? এই ক্ষেত্রে এনসিপি benefit of dought-য়ের সুযোগে বেরিয়ে যেতে পারলেও জামায়াতের সেই সুযোগ একেবারে নেই। কারণ, আমেরিকা চেয়েছিল জামায়াত ক্ষমতায় আসীন হোক। নির্বাচনের আগে দলটি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। একটি বৈঠকের অডিও তো ফাঁস হয় গিয়েছে. যেখানে শোনা যায় আমেরিকা ভীষণভাবে চাইছে জামায়াত ক্ষমতায় আসীন হোক।
ভোট মিটে গিয়েছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতিতে যখন কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে, সেই সময় আবার ফিরে এল ডিপ স্টেটের প্রসঙ্গ। আর সেটা ফাঁস করলেন পূর্বতন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। আসিফ, নাহিদ তবে কি হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন দিচ্ছেন? আরও একটি প্রশ্ন উঠছে, এই দুই তরুণ নেতা এতোদিন বাদে কেন মুখ খুললেন? তবে কি তাদের মুখ দিয়ে কেউ কিছু বলিয়ে ফায়দা আদায় করতে চাইছে? সেটা বোঝা যাবে আর কিছুদিন গেলে।











Discussion about this post