শেখ হাসিনার পতনের ১৭ মাস পর ভারতের মাটিতে প্রথমবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা তথা হাসিনা আমলের দুই সাবেক মন্ত্রী। শনিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার ওই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ-সহ হাসিনার দলের অন্যান্য নেতারা। যা বৃহত্তর এক কূটনৈতিক যুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একটা অংশের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ এবার এসপার-ওসপার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এমনকি খুব শীঘ্রই দলের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রকাশ্যে আসতে চলেছেন। খুব সম্ভবত তিনি আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লির প্রেস ক্লাবেই এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে পারেন। এই বিষয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার এখনও শুরু হয়নি। মাঠেও তেমন উত্তেজনা-উত্তাপ নেই। তবে বংলাদেশ ইতিমধ্যেই নতুন করে বিশৃঙ্খল হতে শুরু করেছে। এরমধ্যেই বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য খুন হয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠীত হতে চলেছে। সেখানে কোনও ভাবেই আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহন করতে দিতে নারাজ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্বাচনও কমিশনও জানিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন ফেরানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। এই আহবে জানা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতবর্ষ একজোট হয়ে আওয়ামী লীগের হয়ে ব্যাট ধরেছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ভোটের ঘোঁট পাকতে শুরু করেছে। ঘটনা হল, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পরপর কয়েকটি সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার খবর সামনে আসতেই কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকা দলের নেতারা দিল্লিতে প্রথমবার প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেন। জানা যাচ্ছে আগামী ২৩ জানুয়ারি আরেকটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা। দিল্লি প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় একের পর এক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অংশগ্রহন করছেন এবং তাঁদের বক্তব্য দূনিয়ার সামনে তুলে ধরছেন। যা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের জন্য খুব একটা সুখকর হচ্ছে না। এমনকি নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তাঁদের এই প্রকাশ্যে আসাও ইউনূস সরকারের জন্য যথেষ্টই অস্বস্তিকর। এবার যদি শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন, তাহলে ইউনূস সরকারের হাওয়া টাইট হয়ে যাবে।
শনিবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশের বাংলাদেশের সাবেক বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের দেশ। হাসিনা এবং আমরা অন্যান্যরা যাঁরা দেশের বাইরে আছি, তাঁরা ফিরে আসতে চাই। কিন্তু অন্তবর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচন আইন মেনে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিশোধ পরায়ণ। তারা আমাদের সঙ্গে কেবল শত্রুতাই চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকবারই আমরা জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণকে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু ইউনুস সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ কখনই ভালো কাজ করতে পারবে না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা সম্ভব হচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে। তারেকের দেশে ফেরা থেকেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। তাতে যেমন ভারতের একটা ভূমিকা রয়েছে, তেমনই যুক্তরাষ্ট্রও তাতে সায় দিয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ এখন প্রকাশ্যেই ইউনূসের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন।












Discussion about this post