বাংলাদেশের মানুষের এখন একটাই কবে স্থিতিশীলতা ফিরবে দেশে? গত বছরের ৫ আগস্ট যে জনতা খুব উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে রাস্তায় নেমেছিলেন, গণঅভ্যুত্থানে সামিল হয়েছিলেন, তাঁরাই এখন বিভ্রান্ত। দাবি উঠছে শেখ হাসিনা আপনি জলদি দেশে ফিরুন আর বাংলাদেশের হাল ধরুন। আর সাধারণ মানুষের এই দাবি যত কানে আসছে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর বাহিনী ততই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিভ্রান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলও। কবে হবে নির্বাচন, আওয়ামী লীগ ফিরবে কিনা এই প্রশ্নেই দ্বিধা বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। ঠিক এই পরিস্থিতিতে পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিলেন এক বড় বার্তা। তিনি বুধবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভাষণে বেশ জোর দিয়েই বললেন, আমি আজ হোক বা কাল হোক আমি বাংলাদেশে ফিরবোই। আমি আমার জায়গা ফিরে পাবোই।
এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম থেকেই শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ দাবি করে আসছে, তিনিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি পদত্যাগ করেননি, তাঁকে জোর করে সরানো হয়েছিল। এখন কার্যত সেই দাবিই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদিও এই বিষয়ে কোনও মত দেয়নি আবার হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোনও উদ্যোগও নেয়নি। ফলে ধরে নেওয়াই যায়, হাসিনা ফের বাংলাদেশে ফিরবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েই ফিরবেন।
বাংলাদেশ নাকি এক স্বরাচারী শাসকের হাতে ছিল। শেখ হাসিনা হলেন একনায়িকা এবং স্বইরাচারের প্রতীক। তাই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফেরাতে হল গণঅভ্যুত্থান। হাসিনা পালালেন, ক্ষমতায় এলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি শান্তির জন্য নোবেল সম্মান পেয়েছেন, তিনি প্ৰখ্যাত অর্থনীতিবিদ, গোটা বিশ্বেই তাঁর খ্যাতি। বাংলাদেশের জনগন ভাবলেন, এইবার বুঝি সোনার বাংলাদেশ গঠন হবে। কিন্তু অচিরেই তাঁরা বুঝলেন প্রকৃত সত্যটা। যে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে আর ইউনূস আসলে হাতের পুতুল। পূর্বতন মার্কিন প্রশাসন এবং পাক আইএসআই কর্তারা জামায়তে ইসলামী নেতৃত্বর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ষড়যন্ত্র করেছে। খরচ করা হয়েছে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার। যা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের জনগন এখন বুঝছেন আগেই ভালো ছিলাম। দুর্নীতি হতো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হতো, তবে বাংলাদেশ তরতড়িয়ে উন্নতি করছিল। দেশের পোশাক শিল্প গোটা বিশ্বে দুই নম্বরে উঠে এসেছিল। কোটি কোটি ডলার মুনাফা আসছিলো। বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ উপরের দিকে উঠছিল। উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছিলো। পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, নতুন নতুন রেলপথ, সড়ক পথ হচ্ছিলো। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাচ্ছিলো। কিন্তু এখন তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এক থেকে দেড়শো পোশাক শিল্পের কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। ইউনূস সরকার সেই দিকে ধ্যান দিচ্ছে না। প্রায় এক কোটি মানুষ বেকার, ন্যূনতম আয় নেই। আর এই বিষয়টি ঢাকতে বাংলাদেশে সৃষ্টি করা হয়েছে একটা চূরান্ত অরাজক পরিস্থিতির। মৌলবাদী শক্তিগুলি নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটা মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। আর এই সব হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন তদারকি সরকারের তত্ত্বাবধানেই। এখন এটা শুধু ভারত নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী মিডিয়াগুলিও প্রচার করতে শুরু করেছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষ ধীরে ধীরে হলেও উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে তাঁরা হাসিনাকে তাড়িয়ে বড় ভুল করেছে। এখন তাই দাবি উঠছে ফিরে আসুন শেখ হাসিনা।
Discussion about this post