‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধানন্ত কেবল অন্যায্যই নয়,আত্মঘাতীও। পরবর্তী সরকারের বৈধতা থাকা উচিত। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা ভোট দেবেন না। একটি কার্যকরী রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে কখনই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। আমরা আওয়ামী লীগর ভোটারদের অন্য দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমার বিশ্বাস আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হবে। ’
এই বক্তব্য কার, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। সামান্য কয়েকটি কথা। সেই কথা কাঁপিয়ে দিয়েছে যমুনার ভিত। কেঁপে উঠেছে উত্তরপাড়া। হাসিনা দেশে না থেকেও প্রবলভাবে দেশে আছেন। মানে বঙ্গবন্ধু কন্যা অদৃশ্যভাবে ঢাকায় রয়েছেন। হাসিনা-পুত্র জয় রয়েছেন আমেরিকা। অগাস্ট আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের বহু নেতা দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। কেউ গিয়েছেন দিল্লি, কেউ গিয়েছেন কলকাতায়। এমনকী উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। বাহিনীর যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে অনেক আর বাংলাদেশে নেই। দেশে চরম নৈরাজ্য। এই অবস্থায় হাসিনা বিশ্বের তিনটি প্রথম সারির গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেই সাক্ষাৎকারে তোলপাড়া বাংলাদেশ। এই অবস্থায় হাসিনার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব।
হাসিনার কথায়, ‘এটা শুধু আমি কিংবা আমার পরিবারের বিষয় নয়। বাংলাদেশের যে ভবিষ্যৎ আমরা দেখতে চাই, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিরতা এবং সাংবিধানিক শাসন। কোনও একজন ব্যক্তি বা কোনও একটি পরিবার বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে পারবে না। সরকারে থেকে কিংবা বিরোধী হয়েও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য আওয়ামী লীগ ফিরবে। ’
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী সহ আওয়ামী লীগ আমলে বাহিনী এবং পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে হাসিনা তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এই বিচারপ্রক্রিয়া পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদেরকে ক্যাঙারু আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই আদালতের রায় কী হতে পারে, তা সকলের জানান। তাছাড়া আমাকে সময় থাকতে থাকতে নোটিশ পাঠানো হয়নি। সেটা পেলে আমি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেতাম। ’
একটি আন্তর্জাতিক সংবামাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে গুলি চালানো সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন করা হয়। জবাবে হাসিনা জানিয়ে দেন, এই ধরনের কোনও নির্দেশ তিনি দেননি। ঘটনার দিন সেখানে যারা ছিলেন তারা, পরিস্থিতি বিবেচনা করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই সেই সময় সরকার প্রধান হিসেবে তিনি থাকলেও গুলি চালানোর দায়ভার তিনি কোনওভাবেই নেবেন না। হাসিনার কথায়, ‘নেতা হিসেবে আমি চূ়ডা়ন্ত দায়িত্ব নিচ্ছি। তবে গুলি চালানোর নির্দেশ আমি দিইনি।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘চেইন অব কম্যান্ডে কিছু ভুল ছিল। তবে সরকারের সদিচ্ছা ছিল প্রাণহানি যতটা সম্ভব কম করা। ’ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার অগ্রাধিকার বাংলাদেশের কল্যাণ ও স্থিতিশীলতা। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমার বা আমার পরিবারের প্রয়োজন নেই। দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন করবে জনগণ।’
এ সব যখন চলছে, সেই সময় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – ইউনূস কোথায়? না তাকে দেখা যাচ্ছে, না মিলছে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া। তবে কি তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন? সেটাও যদি তিনি করে থাকেন, তাহলে কোথায়? উত্তরপাড়ায় কি?












Discussion about this post