মঙ্গলবার, ভারত-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনার ৭৫তম বার্ষিকীতে, চীনা এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতি একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করেছেন।
এই অনুষ্ঠানেই চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ দ্রৌপদী মুর্মুকে বলেছেন যে বেইজিং এবং নয়াদিল্লির আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসাথে কাজ করা উচিত। ইউনূসের চীন সফরের পরেই কেন এই ধরনের বার্তা চীনের? কী এমন ঘটলো
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার বার্তায় তুলে ধরেন , চীন ও ভারতের সম্পর্ক “ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো”-এর মতো হওয়া উচিত।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক সংঘর্ষের পর ভারত ও চীন উত্তেজনা কমানোর জন্য কাজ করছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে,চীনা প্রেসিডেন্ট প্রতিবেশীদের শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের উপায় খুঁজে বের করা উচিত মনে করেন এবং তিনি প্রধান আন্তর্জাতিক বিষয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও গভীর করতে এবং সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে শান্তি রক্ষা করতে প্রস্তুত।
কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য উভয় দেশের পরিকল্পনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উভয় পক্ষই এই সুযোগটি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।
তিনি আরো বলেন, উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও গভীর করা উচিত, সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে শান্তিরক্ষা ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা উচিত এবং চীন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ককে সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ২৫শে মার্চ, বেইজিংয়ে ভারত ও চীন কূটনৈতিক আলোচনার একটি নতুন সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং আন্তঃসীমান্ত নদীব্যবস্থা এবং কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করা সহ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উপর আলোকপাত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চীন সফর সেরে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। ইউনূসের এই চীন সফর ঘিরে তৈরি হচ্ছে বিস্তার জল্পনা। যা বিশ্ব রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
চীন সফরে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ইউনুস বলেছিলেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে স্থল বেষ্টিত অঞ্চল সমুদ্রের কাছে পৌঁছানোর কোন উপায় নেই। এই সমুদ্র অঞ্চলের একমাত্র অভিভাবক আমরাই। বাংলাদেশের মাধ্যমে চীনের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার গভীরতর আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই ইউনূসের এই বার্তা। তার পাশাপাশি ইউনূসের সফর শেষে চীনের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Discussion about this post